শেবাচিমে আউটসোর্সিং টেন্ডার নিয়ে বিতর্ক, পুরোনো সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ

দেশ জনপদ ডেস্ক | ২২:২৫, জুন ২২ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) এ ক্লিনার, প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের জন্য আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহের টেন্ডারকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে কাজ পাওয়া একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার গোষ্ঠীকে আবারও কাজ পাইয়ে দিতে বিভিন্ন ধরনের শর্ত ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন সম্ভাব্য দরতাতা ও সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শেবাচিম হাসপাতালে ক্লিনার ও সিকিউরিটি পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অস্থায়ী ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকেই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার চক্র এই কাজের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেটের কারণে অন্য কোনো ঠিকাদার কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারতেন না। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে নতুন দরপত্র আহবান না করে বছরের পর বছর একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ নবায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিক নিয়োগ ও চাকরি বহাল রাখার নামে কর্মীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের বেতন থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ কেটে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক ও আবেদনকারী জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মৌখিক পরীক্ষা বা অন্যান্য ধাপে বহিরাগত প্রভাব খাটানো হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, পূর্বের ঠিকাদারদের নিয়োজিত লোকজন নতুন প্রার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। টেন্ডারের শর্ত নিয়ে প্রশ্ন। সম্প্রতি নতুন করে আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহের টেন্ডার ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) পদ্ধতিতে আহবান করা হয়েছে। তবে কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, দরপত্রে এমন কিছু শর্ত সংযুক্ত করা হয়েছে, যা মূলত পূর্বের ঠিকাদারদের সুবিধা দিতেই করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার বলেন, “সব ধরনের যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করে দরপত্র জমা দেওয়ার পরও বারবার একই গোষ্ঠী কাজ পেয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।”

আরেক ঠিকাদারের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গড়ে ওঠা প্রভাবশালী ঠিকাদার চক্র এখনো সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের কারণে বাইরের কোনো যোগ্য প্রতিষ্ঠান কাজ পাওয়ার সুযোগ পেত না। বর্তমান টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন।

অভিযোগকারীদের দাবি, শুধু ঠিকাদার গোষ্ঠী নয়, হাসপাতালের কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তার ভূমিকাও তদন্তের দাবি রাখে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের একাংশ এখনো পুরোনো ঠিকাদারদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কাজ করছে এবং নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে সরকারি অর্থের সাশ্রয়ের পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকারও অধিকতর সুরক্ষিত হবে।