ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের মহিলা কলেজ সংলগ্ন পশ্চিম চর বাঘরী এলাকায় চলাচলের রাস্তার উপরে সীমানা প্রাচীর (দেয়াল) নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মো. ইব্রাহিম খলিল হাওলাদার (৫৫) এর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সোবাহান,মো.মজিবর রহমান,মনোয়ারা বেগম, তাসলিমা বেগম, শাহিনুর বেগম অভিযোগ করে জানায়, আমাদের ৭টি পরিবারের অন্তত শতাধিক মানুষের ৩০ বছরের পুরনো চলাচলের রাস্তার উপরে দেয়াল নির্মাণ করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে ইব্রাহিম খলিল হাওলাদার। ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক নির্মিত রাস্তার কিছু অংশ কেটে প্রাচীর নির্মাণ করছেন তিনি। এখানে একটি পুরনো প্রাচীর রয়েছে, ইব্রাহীম খলিল এরও এই প্রাচীরের সাথে সমান করে প্রাচীর নির্মাণ করার কথা থাকলেও তিনি তা না মেনে রাস্তার উপরে প্রাচীর নির্মাণ করতেছে। তিনি সামন্য কয়েক ইঞ্চি পিছনে এগিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করলে আমাদের চলাচলে আর কোনো সমস্যা হতোনা। আমরা কেউ অসুস্থ হলে একটি এ্যাম্বুলেন্স বা ভ্যানে করে নিয়ে যেতে পারিনা।
এখানে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী আসতে পারেনা। কেউ কোনো মালামাল নিয়ে আসতে পারেনা, এমন কি একটি মানুষ মারা গেলে তার খাটিয়া নিয়ে চলাচল করতে পারি না আমরা। এই জমি যখন বিক্রি করছে তখন এখানকার বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা রেখে যার যার সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কথা থাকলেও ইব্রাহিম খলিল তা না মেনে রাস্তার উপরের প্রাচীর নির্মাণ করছে। নিরুপায় হয়ে আমরা ইব্রাহিম খলিলকে একাধিক বার প্রস্তাব দিয়েছি যে আপনি যেটুকু জমি ছেড়ে দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করবেন সেটুকু জমির দাম আমরা আপনাকে দিয়ে দিবো। জমি কেনার সময় ইব্রাহিম খলিল রাস্তা বাদে পরিমাপ করে জমি বুঝে নিছে। তারপরেও আমরা তাকে একাধিক বার টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছি। এসব প্রস্তাব না মেনে ইব্রাহিম খলিল হাওলাদারের পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ কল দিয়ে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদের হয়রানি করে আসছে। এখানে স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন সালিশ মিমাংসার জন্য আসলে ইব্রাহীম খলিল তাদের অপমান করে এবং তার মেয়ে রোজিনা নাকি ঢাকায় খোলা বাজার নামের একটি মিডিয়ার সাংবাদিক। তার মেয়ে সেই অপ সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে থানা সহ বিভিন্ন যায়গা থেকে আমাদের হয়রানি করা সহ হুমকি দিয়ে আসছে।
এ বিষয়ে ইব্রাহিম খলিল জানায়, দীর্ঘদিন আগে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রাস্তার বরাদ্দ আসলে ফোরক মেম্বার আমার কাছে রাস্তার জন্য চার ফুট জমি দাবি করলে আমি আমার চার ফুট জমি ছেড়ে দেই। কিছুদিন আগে স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার মৃধার ‘মা’ আমাকে রাস্তার জন্য কিছু জমি ছাড়তে বলে।
তিনি বলেন- এখান থেকে একটি মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য কিছু জমি ছেড়ে দেন। তাদের কথায় আমি আরো ছয় ইঞ্চি জমি ছেড়ে দিয়েছি। বর্তমানে দেয়াল নির্মাণের সময় আরো তিন ইঞ্চি জমি ছেড়ে দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করছি। এখানে আমার ক্রয়কৃত ৮ শতাংশ জমি থাকলেও বর্তমানে ৭.৫০ শতাংশও নাই আমি। আর কত দিব।