লোডশেডিংয়ের কবলে বরিশালের শেবাচিম হাসপাতাল, অন্ধকারে আইসিইউ ওয়ার্ড

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:৫১, জুন ১৭ ২০২৬ মিনিট

বরিশালে গত এক সপ্তাহ ধরে ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। পরিস্থিত মোকাবিলায় প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে নগরীতে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, চাহিদার অর্ধেকও সরবরাহ পাচ্ছে না তারা। এদিকে বরিশাল নগরবাসী অন্ধকারে থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত বাণিজ্য মেলা চলায় ক্ষুব্ধ অনেকে। সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো—লোডশেডিংয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ড থাকে অন্ধকারে নিমজ্জিত।

গতকাল মঙ্গলবার বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘আগামী ২ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া খুবই বিঘ্নিত হচ্ছে। কিন্তু বাণিজ্য মেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বহাল আছে। বিদ্যুৎ বিভাগ কি বলবেন?’

এমন ক্ষোভ এখন নগরের ঘরে ঘরে। আজ বুধবার সকাল থেকে অন্তত আটবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার খেলায় ছিল। এসব কারণে অফিসপাড়ায়ও কাজে ব্যাঘাত ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটেও বিদ্যুৎ থাকে না। আরিফুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী জানান, গতকাল তিনি শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেন অন্ধকার। মুমূর্ষু রোগীদের এই ইউনিটে বিকল্প বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ গেলে হাতপাখা, মোমবাতি, মোবাইলের আলোই একমাত্র ভরসা।

আরিফুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালটিতে গত ১০ বছরে কয়েক শ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও আইসিইউতে একটি জেনারেটরের ব্যবস্থা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীরকে ফোন দেওয়া হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, তাঁর আওতায় নগরের একাংশ ও ঝালকাঠি মিলে বিদ্যুতের চাহিদা ৯০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাচ্ছেন ৫০ মেগাওয়াট। তিনি বলেন, নগরের একাংশেই চাহিদা রয়েছে ৬৫ মেগাওয়াট। যে কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিতে পারছেন না।

বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত মালাকার জানান, তাঁর আওতায় নগরের উত্তর অংশের চাহিদা ৪২ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পেয়েছেন মাত্র ২২ মেগাওয়াট। হঠাৎ কোনো পাওয়ার প্ল্যান্ট হয়তো বন্ধ আছে। যে কারণে এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিডের বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান পলাশ বলেন, জেনারেশন শর্টের কারণে বরিশালে ২০ থেকে ২৫ ভাগ লোডশেডিং হচ্ছে। আশা করা যায়, দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে তোলা যাবে।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সহসভাপতি আব্দুর রশিদ নিলু বলেন, এতটা ভয়াবহ লোডশেডিং হওয়া কাম্য নয়। রাজধানী ঠিক না রেখে সমবণ্টন হওয়া উচিত। তিনি বলেন, শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউতে লোডশেডিং অগ্রহণযোগ্য। সেখানে অন্তত জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকা দরকার।

জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ১৬ জুন এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শেবাচিম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়ার পর সাংবাদিকদের জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমি দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র। জুলাই মাসে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা করব। ওই সভায় হাসপাতালটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করব। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সেবাগ্রহীতাদের নিয়ে একটি সভা করব। যেখানে তাদের কাছ থেকে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে মতামত নেব।’

হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা নিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, হাসপাতালটিকে এমনভাবে পরিচালনা করা হবে, যাতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সব সেবা হাসপাতালটিতে পায়। তাদের যাতে চিকিৎসাসেবা পেতে ঢাকা অথবা অন্য কোথাও যেতে না হয়।