বন্ধ হয়ে গেল অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা, বিপাকে শ্রমিকেরা
নিজেস্ব প্রতিবেদক|২২:১৯, জুন ১১ ২০২৬ মিনিট
বরিশালের রূপাতলীতে অবস্থিত সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে অলিম্পিক সিমেন্ট ও ফাইবার লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নকে চিঠি দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ ছিল। নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যবসায়িক লোকসান, কাঁচামালের সংকট ও ডলার-এলসি সংকটের কারণে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই ১৩ জুন থেকে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকবে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৬ ও ২৮ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ চিঠিতে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিকা রহমান স্বাক্ষর করেছেন।
নগরের দক্ষিণাংশে রূপাতলীতে কীর্তনখোলার তীরে অবস্থিত কারখানাটি বাজারে অ্যাংকর সিমেন্ট নামে পরিচিত। বরিশালে ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান না থাকায় হাতে গোনা কয়েকটি মাঝারি ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এটি ছিল একমাত্র সিমেন্ট কারখানা। সেখানে তিন শতাধিক শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কর্মসংস্থান ছিল। অলিম্পিক সিমেন্ট কোম্পানি বরিশালের অন্যতম ব্যবসায়ী পরিবার খান সন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান।
কারখানা পুনরায় চালুর দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়ে আন্দোলন করছেন বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তী।তিনি আজ বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি, অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বিক্রি হতে যাচ্ছে। দেশের একটি বড় সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এটির ক্রেতা। উপযুক্ত পাওনা বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত শ্রমিকেরা আগামীকাল শুক্রবার থেকে কারখানার সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন।’
এ বিষয়ে অলিম্পিক সিমেন্ট কোম্পানির দায়িত্বশীলদের কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।