দীর্ঘ ৬ বছর পর বরিশালে পর্দা উঠেলো বাণিজ্যমেলার, জাগছে অর্থনীতির নতুন আশা

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:২৯, জুন ০৪ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : নানা প্রশাসনিক জটিলতা, দীর্ঘ বিতর্ক আর অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে দীর্ঘ ছয় বছর পর বরিশালে পর্দা উঠেছে বহুল প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার। নগরীর ঐতিহ্যবাহী পরেশ সাগর মাঠজুড়ে এখন শুধু রঙিন আলোর ঝলকানি আর উৎসবের আমেজ। দীর্ঘ এক বিরতির পর ঘরের দুয়ারে এমন বৃহৎ বাণিজ্যিক আয়োজন ফিরে আসাকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন বরিশালের ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সাধারণ নগরবাসী। মেলাকে ঘিরে পুরো বিভাগে নতুন অর্থনৈতিক প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। ২৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে জুন মাসজুড়ে। মেলার সুবিশাল প্রাঙ্গণ সেজেছে দেশি-বিদেশি নামি-দামি প্রতিষ্ঠানের স্টল ও দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়নে।   মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, আধুনিক গৃহস্থালি সামগ্রী, স্মার্ট ইলেকট্রনিক্স পণ্য, সর্বশেষ ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল সামগ্রী, কসমেটিক্স, বুটিক ও হস্তশিল্পের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে নানা পুষ্টিকর ও বাহারি খাদ্যসামগ্রী।   জৈষ্ঠ্যের তপ্ত দুপুর পেরিয়ে বিকেল গড়াতেই মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠছে দর্শনার্থীদের গুঞ্জনে। কেউ আসছেন পুরো পরিবার নিয়ে ঘরকন্যার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে, কেউ আসছেন বন্ধুদের সাথে দলবেঁধে মেলা ঘুরে দেখতে, আবার কেউ আসছেন কেবলই যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে একটু বিনোদনের খোঁজে।   মেলায় আসা দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, বরিশালে দীর্ঘদিন পর এমন একটা মেলা হওয়ায় আমরা সত্যিই আনন্দিত। কেনাকাটা তো একটা উসিলা, আসলে দীর্ঘদিন পর সবাই মিলে একসাথে মেলায় ঘুরে বেড়ানোর আনন্দটাই আলাদা।   এবারের মেলার অন্যতম বড় বিশেষত্ব হলো এর বিনোদন জোন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য রাখা হয়েছে নাগরদোলা, মিনি ট্রেন, ওয়াটার বোটসহ নানা রোমাঞ্চকর রাইড। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত শিশুদের আনন্দ-উল্লাস আর হাসিতে মুখর থাকছে পুরো মাঠ। ফলে এই মেলা এখন শুধু পণ্য কেনাবেচার গতানুগতিক বাজার নয়, বরং পরিণত হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে বড় পারিবারিক মিলনমেলায়। মেলায় অংশ নেয়া স্টল মালিক ও প্রতিনিধিরা বলছেন, দীর্ঘ বিরতির পর এই বড় আয়োজন তাদের পণ্য প্রদর্শন ও নতুন ক্রেতা তৈরির দারুণ এক প্ল্যাটফর্ম এনে দিয়েছে। তবে মেলা শুরু হলেও এখনো বেচাকেনা তার পূর্ণ গতি পায়নি।   উদ্যোক্তারা আশা করছেন, সামনে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হলে এবং ঈদের পরবর্তী সময়ে মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হবে। এক হস্তশিল্প ব্যবসায়ী বলেন, ছয় বছর পর বরিশালে মেলা হওয়ায় আমরা অনেক বড় প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। এখন মানুষ মূলত দেখছে ও টুকটাক কিনছে। তবে আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলে, ঈদের ছুটির আমেজ শুরু হলেই মেলা শতভাগ জমে উঠবে।বরিশাল জেলা তথ্য   মেলার সার্বিক শৃঙ্খলা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেলা প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। মেলা আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, পুরো প্রাঙ্গণ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের যাতায়াত ও নির্বিঘ্ন পার্কিং ব্যবস্থার জন্য বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত রয়েছে।   অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাণিজ্য মেলা কেবল কেনাকাটার উৎসব নয়; এটি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙা করার এক বড় হাতিয়ার। বিশেষ করে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন বাজার তৈরিতে এই মেলা মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।