জুনের প্রথমার্ধে গরমের দাপট, মাসের মাঝামাঝি বাড়তে পারে বৃষ্টিপাত

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:১৮, জুন ০৪ ২০২৬ মিনিট

থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টিও দেখা গেছে।   অন্যদিকে, মে মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দফা মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৮ মে চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৩ মে সিলেটে রেকর্ড করা হয়। তবে সামগ্রিকভাবে দেশের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল।   নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু নদ-নদীর পানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।   এদিকে আবহাওয়া নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানান, এখনো মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা পুরোপুরি বাংলাদেশে প্রবেশ না করায় বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১০ জুনের আশপাশে মৌসুমি বায়ু দেশে সক্রিয়ভাবে প্রবেশ করতে পারে এবং ১১-১২ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর আগে পর্যন্ত মূলত প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রবণতাই বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।   তিনি বলেন, ১০ জুনের পর দেশের অভ্যন্তরে মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের বিস্তার ঘটাতে পারে। টানা তিন থেকে চার দিন বৃষ্টিপাত চলার পর মাঝেমধ্যে বিরতিও দেখা যেতে পারে। এমন বিরতিসহ জুন মাসের শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বছর জুন মাসে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তা মাসের শেষার্ধে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশের সামগ্রিক মাসিক বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে।   এই আবহাওয়াবিদ জানান, বর্তমানে চলমান তাপপ্রবাহের প্রভাব কম-বেশি ১০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ৫ জুনের পর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত বাড়তে শুরু করলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। বৃষ্টিপাতের কারণে সাময়িক স্বস্তি মিললেও পরে আবার ভ্যাপসা গরম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   তিনি বলেন, জুনের প্রথমার্ধে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও মাসের শেষার্ধে উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেলে নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।