পটুয়াখালীর বাউফলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিন হাওলাদার (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের বসতঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (৩ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড উত্তর কালাইয়া গ্রামের লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা মামলার আসামিদের একটি বসতঘরে আগুন দেয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। আগুন লাগার ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত রবীন হাওলাদারের ভাই শুভঙ্কর হাওলাদার (৩৫) বলেন, তার ভাইয়ের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ রাত ৯টার দিকে বাড়ির উঠানে পারিবারিক শ্মশানে অন্তেষ্টিক্রিয়া করার শেষ দিকে আসামীদের ঘরে একটি বিকট শব্দ হয়।
মুহুর্তেই ঘরটিতে আগুন ছড়িয়ে পরে। শুভঙ্করের অভিযোগ, আসামী অথবা আসামী পক্ষের লোকজন রাতের অন্ধকারে তাদের নিজ বসতঘরে আগুন দিয়ে আমাদের ফাসানোর কৌশল করেছেন।
এ বিষয়ে আসামী ও তাদের স্বজনরা পলাতক থাকায় তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের ধারনা নিহত রবিন হাওলাদালের ছেলে রনি হাওলাদার তার বাবার মৃত্যুতে অনেক উত্তেজিত ছিলো।
রাগে ক্ষোভে এমনটা হতে পারে। উল্লেখ্য এর আগে একই দিন (বুধবার) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ির উঠানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বিরোধের জেরে রবিন হাওলাদার (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় তার স্ত্রী ঠাকুর রানী হাওলাদার (৪৫) এবং দুই ছেলে রনি হাওলাদার (২২) ও হৃদয় হাওলাদার (২৪) গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে হৃদয় হাওলাদার বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এ ঘটনায় পুলিশ আনন্দ ব্যাপারী (৬০), তার স্ত্রী কুসুম ব্যাপারী (৫০), ছেলে রতন ব্যাপারী (৩২) ও প্রদীপ ব্যাপারী (২৭), সুশান্ত ব্যাপারী (৬৫) এবং তার ছেলে সুজন ব্যাপারী (২৬) কে গ্রেফতার করে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।