ব্যবসায়ীসহ দুজনকে কুপিয়ে হত্যা
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পৃথক স্থানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়ন এবং ফুলঝুরি গ্রামে এ দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ধানীসাফা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ফুলজুরি গ্রামের নিহত মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফ (৩৫)। অন্যজন হলেন- ৬ নম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাজু হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা ও পোশাক ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম (৩০)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে ধানীসাফা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ফুলজুরি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে মোহাম্মদ ইউসুফ শরীফকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার আলমগীর শরীফের ছেলে মো. আরাফাত শরিফ (৩০), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (২৪) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন মিলে ধারালো দা দিয়ে ইউসুফের গলা, ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, উপজেলার ৬ নম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাজু হাওলাদার বাড়িতে নিজ শোবার ঘর থেকে আব্দুল কাইয়ুম নামে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি স্থানীয় সাধনা ব্রিজ ও বড় ব্রিজ এলাকায় কাপড়ের ব্যবসা করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাইয়ুমের স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকায় আজ দুপুরে তিনি ঘরে একাই ছিলেন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে শোবার ঘরে তাকে কুঠাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।
একই দিনে পৃথক দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল দুটি পরিদর্শন করে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, ফুলজুরি গ্রামের হত্যাকাণ্ডটি জমিজমা বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। অন্যদিকে টিকিকাটা ইউনিয়নে কুঠার দিয়ে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, দুটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
