শেবাচিম হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:১৬, মে ২৪ ২০২৬ মিনিট

বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে আবারও রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার মধ্যরাতে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এর জেরে শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসকেরা আজ রোববার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত মিজানুর রহমান (৪০) নামের এক রোগীকে গতকাল রাত ১২টার পরে শেবাচিম হাসপাতালে আনা হয়। তিনি পটুয়াখালী সদরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকার বাসিন্দা। হাসপাতালের চতুর্থ তলায় সার্জারি ওয়ার্ডে নেওয়ার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিজানুর মারা যান।

মৃতের ছোট ভাই রুবেল হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, রোগীর মৃত্যুর পর হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় লিমন তাঁদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা সরকারি বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ সরোয়ার ব্যবস্থাপত্র নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মচারীরা নাহিদসহ রোগীর স্বজনদের মারধর করে আটকে রাখেন। নাহিদকে আটকে রাখার খবর জেনে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হন। হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরাও পাল্টা অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

বরিশাল কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও বিএম কলেজশিক্ষকদের উপস্থিতিতে বৈঠক করে বিষয়টির সমাধান করা হয়।

এদিকে গতকাল রাতের ঘটনার জেরে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে আজ সকাল ১০টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ধর্মঘট শুরু করেছেন। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসাব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। জানা গেছে, এ হাসপাতালে প্রায় আড়াই শ ইন্টার্ন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন। ওয়ার্ডে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা তাঁদের ওপরই নির্ভরশীল।

ইন্টার্ন চিকিৎসক তানভীর হোসেন জানান, গতকাল রাতে সার্জারি ওয়ার্ডে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর এক মৃতের স্বজনেরা হামলা করেছেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা হয়েছে। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ওয়ার্ডে ডিউটি করবেন না।

এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আব্দুল মুনায়েম সাদ বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কিছু দাবি ছিল। যেমন আনসার নিয়োগ, সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন, অতিরিক্ত রোগী ভর্তি না করা। তাঁদের এসব দাবি পূরণের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল সোমবার থেকে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। প্রতি ওয়ার্ডে আনসার নিয়োগ দেওয়া হলে কাজে ফিরবেন তাঁরা। তবে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন সম্ভব না বলে জানান তিনি।

সাদ আরও বলেন, ওই ঘটনায় চিকিৎসক ও বিএম কলেজশিক্ষকদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।