চরমোনাই দরবার শরীফের মাদ্রাসায় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে ছিল ছাত্রী, ১৮ ঘণ্টায়ও ফেরেনি জ্ঞান

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:২৬, মে ২৩ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের চরমোনাই দরবার শরীফের কওমি মহিলা মাদ্রাসায় রিমা আক্তার নামের এক ছাত্রীকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার ১৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও জ্ঞান ফেরেনি তার।

শুক্রবার (২২ মে) রাত ৯টার দিকে চরমোনাই মাদ্রাসা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্রী রিমা আক্তার কওমি মহিলা মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের ছাত্রী।

পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসায় এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় পরিকল্পিত বুলিং বা নির্যাতনের শিকার হয়েছে রিমা। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ভবন থেকে লাফ দিয়েছে রিমা। ঘটনার ১৮ ঘণ্টা পার হলেও এখনও জ্ঞান ফেরেনি তার।

আহতের ভাই রিয়ন বলেন, ‘শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মাদ্রাসা থেকে ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলা হয়। হাসপাতালে আসার পর, রিমাকে নিয়ে আসা শিক্ষকরা একবার বলছেন গাড়ি দুর্ঘটনা, আরেকবার বলছেন মাদ্রাসার ছয়তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার বোন ছয়তলা থেকে লাফ দেয়ার কোনো কারণই নেই। রিমা তার শ্রেণি শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৫ মে একটা লিখিত অভিযোগ তৈরি করেছিল। এ নিয়ে আমাকেও মাদ্রাসায় ডেকেছিল। আমি রিমার হয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে মাফ চেয়ে এসেছি। এ নিয়ে হয়তো সে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে বুলিংয়ের শিকার হতে পারে।’

সঙ্গে থাকা আরও দুজন স্বজন বলেন, ‘রিমা অত্যন্ত মেধাবী। সে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, লেখাপড়া করে অনেক বড় হবে। তাছাড়া তার মনোবল অনেক শক্ত। সুতরাং সে কেন ছয়তলা থেকে লাফ দিবে? রিমা যে লাফ দিয়েছে তা দেখেছে কে? এখানে অন্য কোনো রহস্য লুকায়িত আছে।’

আহত ছাত্রীর সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়া মাদ্রাসা শিক্ষক বেলাল হোসেন বলেন, ‘গতকাল রাতে আমরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছি। সে ছয়তলা ভবনের নিচে বালুর উপরে পড়ে ছিল। কী ঘটনা ঘটেছে সেটা বলতে পারছি না। তবে মাদ্রাসার আয়া-বুয়ারা জানিয়েছে রিমা লাফ দিয়েছে।’ সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টার দিকে শেবাচিম হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় অচেতন রিমাকে।