বরিশালে শুরুর আগেই বন্ধ বাণিজ্য মেলা

দেশ জনপদ ডেস্ক | ২১:১৭, মে ২৩ ২০২৬ মিনিট

বরিশালে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, আলোকসজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন আর উদ্বোধনী প্রস্তুতির সবকিছু সম্পন্ন হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়ে গেল বহুল আলোচিত ‘গ্রামীণ কুটির শিল্প পণ্য ও উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬’ (বাণিজ্য মেলা)। উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টা আগে হাইকোর্টের নির্দেশনার খবর পৌঁছালে থমকে যায় পুরো আয়োজন। এ ঘটনাকে ঘিরে এখন নগরজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। শুক্রবার (২২ মে) নগরীর পরেশ সাগর মাঠে মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধনের কথা ছিল। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান অতিথি এবং জেলা প্রশাসককে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। মঞ্চ নির্মাণ, ব্যানার-ফেস্টুন টানানো, স্টল সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও অতিথি আপ্যায়নের সব আয়োজনও শেষ করা হয় আগেই। সকাল থেকেই পরেশ সাগর মাঠ এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তারা নিজ নিজ স্টল সাজিয়ে পণ্য প্রদর্শনের প্রস্তুতি নেন। কেউ শেষ মুহূর্তে পণ্য গোছাচ্ছিলেন, কেউবা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ব্যস্ত ছিলেন সাজসজ্জায়। মঞ্চজুড়ে টানানো হয়েছিল অতিথিদের নামসংবলিত ব্যানার। সব মিলিয়ে উদ্বোধনকে ঘিরে ছিল উৎসবের আমেজ। কিন্তু বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই আসে আদালতের নির্দেশনার খবর। মুহূর্তেই বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। বন্ধ হয়ে যায় মেলার কার্যক্রম, থমকে যায় উদ্বোধনের প্রস্তুতি। আদালতের নথি অনুযায়ী, বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাধারণ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়, মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং-৬২৯১/২০২৬ এর নির্দেশনার আলোকে ‘গ্রামীণ কুটির শিল্প পণ্য ও উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬’ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে প্রস্তাবিত এ মেলা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২১ মে ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) মো. মাহফুজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, কোতোয়ালি মডেল থানা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়। শেষ মুহূর্তে মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা। তাদের ভাষ্য, স্টল ভাড়া, পরিবহন, কর্মচারী নিয়োগ এবং পণ্য আনার পেছনে তারা বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন। হঠাৎ করে মেলা স্থগিত হওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এদিকে নগরবাসীর একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, বিভাগীয় পর্যায়ের এমন বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে কেন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের অভাব ছিল। আদালত পর্যন্ত বিষয়টি গড়ানোর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। এ বিষয়ে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবায়দুল হক চানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আয়োজকরা আদালতের নির্দেশনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।