বরিশালে চাঁদা না পেয়ে জেলেসহ নৌকা ডুবিয়ে দিল নৌ পুলিশ : অতঃপর

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:১৪, মে ২০ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের মুলাদীতে চাঁদা না পেয়ে জেলেসহ একটি মাছ ধরার নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হিজলা নৌ পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জেলেরা নৌ পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন এবং চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, গত সোমবার (১৮ মে) বিকেলে হিজলা নৌ পুলিশ সদস্যরা মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ভেদুরিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি জেলে নৌকা ডুবিয়ে দেন। এতে নৌকায় থাকা জেলে তারেক পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন। পরে স্থানীয় জেলেরা জাল ফেলে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অপর জেলে ছাব্বির সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। ভেদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা বাবুল হাওলাদার অভিযোগ করেন, হিজলা নৌ পুলিশ সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন জয়ন্তী নদীর ভেদুরিয়া ও ব্যাপারীর হাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেলেদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। ১৮ মে বিকেলে তাঁর ছেলে ছাব্বির ও তারেক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নৌ পুলিশ তাদের নৌকা ডুবিয়ে দেয়। চরকালেখান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মজিবর খান বলেন, ‘মুলাদী উপজেলার সীমানায় দায়িত্ব পালন করে নাজিরপুর নৌ পুলিশ। অথচ হিজলা নৌ পুলিশ সেখানে অবৈধভাবে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন জেলের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তারা সজল হাওলাদারের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা, নান্নু হাওলাদারের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা, মামুন হোসেনের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা এবং সজল হোসেনের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা নিয়েছে।’ নৌ পুলিশের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে জেলেরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র মণ্ডল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মুলাদী উপজেলা এলাকায় অভিযানের এখতিয়ার হিজলা নৌ পুলিশের নেই। ১৮ মে হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে কোনো ট্রলার অভিযানে যায়নি। জেলেদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।