অলৌকিক আংটি পাওয়ার আশায় ৩৩ লাখ টাকা খোয়ালেন নারী

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:৫৪, মে ২০ ২০২৬ মিনিট

চট্টগ্রাম নগরীর চাঁন্দগাঁওয়ে জ্বীন তাড়ানো, অলৌকিক আংটি ও লকেট দেওয়া এবং ব্যবসায়িক অংশীদার করার নামে এক নারীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। বুধবার (২০ মে) চাঁদগাঁও থানায় এ ঘটনায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই নারী। মামলায় মোট ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী তাজমিন আক্তার (৪৬) চান্দগাঁও থানার খাজা রোড এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে অভিযুক্ত আসামি হলেন ফেরদৌস আলম নয়ন (৪৫)। তিনি কক্সবাজার জেলার রামু থানার কচ্ছপিয়া এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে চান্দগাঁও খাজা রোডের সিকদার ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে এই প্রতারণার ঘটনা ঘটে। তাজমিন আক্তারের ছেলে তাসিফুর রহমান (২৩) সাতকানিয়া এলাকায় একটি ফিড মিলের ব্যবসা পরিচালনা করেন। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতার কারণে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ভুক্তভোগী তাজমিন আক্তার কবিরাজি চিকিৎসার জন্য ফেরদৌস আলমের বাসায় যান। সেখানে নয়ন নিজেকে একজন অভিজ্ঞ কবিরাজ হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাজমিনের পরিবারকে বিভিন্ন কুসংস্কার ও অলৌকিক ভয়-ভীতি দেখাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে নয়ন তাজমিনের পরিবারকে জানান যে- তাদের ওপর বান মারা হয়েছে। এসবের হাত থেকে বাঁচতে হলে বিশেষ আংটি ও লকেট ব্যবহার করতে হবে। এসব অলৌকিক আংটি ও চিকিৎসার নামে ধাপে ধাপে বাদীর কাছ থেকে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। পরে তাজমিনকে মা ডেকে আবেগপ্রবণ করেন নয়ন। তার মাছ ধরার বোটে জলদস্যুদের হামলার নাটক সাজিয়ে জরুরি ভিত্তিতে টাকা ধার চান। জলদস্যুদের কবল থেকে বোট মুক্ত করার অজুহাতে তিনি তাজমিনের কাছ থেকে নগদ এবং স্বর্ণ বন্ধক রাখিয়ে আরও ১০ লাখ টাকা নেন। এরপর একইভাবে টেকনাফ হয়ে বার্মা থেকে বিশেষ মেডিসিন আনা এবং ছেলের চিকিৎসার অজুহাতে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক লেনদেন ও নগদ অর্থসহ মোট ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে গত ২৬ এপ্রিল তারিখে সন্ধ্যায় নয়ন টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং উল্টো তাজমিনকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেন। এই ঘটনায় বুধবার চাঁন্দগাঁও থানায় মামলা করেন তাজমিন। চাঁন্দগাঁও থানার ওসি মো. নূর হোসেন মামুন বলেন, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে আমরা মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় রুজু করেছি।