নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশাল নগরীতে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিয়েও নিজের সন্তানকে ফিরে পাননি বাবা মাওলানা ফোরকান উদ্দিন। বুকভরা আশা নিয়ে অপহরণকারীদের হাতে টাকা তুলে দিলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছে মাদ্রাসাছাত্র হাফেজ আতাউল্লাহ (১৪)। দুই সপ্তাহ ধরে সন্তানের কোনো খোঁজ না পেয়ে দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে পরিবার।
জানা গেছে, গত ৮ মে বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি খালপাড় সড়কে অবস্থিত জামিয়া কোরানিয়া মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয় হিফজ বিভাগের ছাত্র আতাউল্লাহ। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর বিষয়টি জানানো হয় তার পরিবারকে। পরে স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে গত ১৩ মে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১০৪২) করেন।
পরিবারের অভিযোগ, আতাউল্লাহ নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর থেকেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করতে থাকে। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় মাওলানা ফোরকান উদ্দিন চক্রটির নির্দেশ মোতাবেক বাটাজোর এলাকার নির্ধারিত স্থানে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে যান। সেখানে ছেলেকে সরাসরি উপস্থিত করা না হলেও ভিডিও কলে দেখানো হয়।
ভিডিও কলে আহত ও আতঙ্কিত অবস্থায় ছেলেকে দেখে ভেঙে পড়েন মাওলানা ফোরকান উদ্দিন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশ ও র্যাবকে জানান। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সংঘবদ্ধ চক্রটি ছেলেকে হত্যার হুমকি দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে এক লক্ষ টাকা আদায় করে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুক্তিপণ দেওয়ার পরও সন্তানকে ফিরে না পেয়ে গভীর হতাশা নিয়ে ওই রাতেই বাড়ি ফেরেন মাওলানা ফোরকান উদ্দিন। পরে তিনি কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আল মামুন-উল ইসলামকে পুরো ঘটনা বিস্তারিত জানান। এরপর পুলিশ বিকাশ নম্বর ও ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করে।
পরে গত ১৮ মে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিনকে সন্দেহভাজনদের ধরতে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে কয়েকজনকে আটক করা হলেও পরে তথ্য বিভ্রান্তির কথা বলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিখোঁজ আতাউল্লাহর বাবা মাওলানা ফোরকান উদ্দিন।
তিনি বলেন, “যে নম্বরে আমি বিকাশ করেছি, যে ইমো নম্বরে আমার ছেলেকে ভিডিও কলে দেখানো হয়েছে সব তথ্যই আমি পুলিশকে দিয়েছি। যাচাই-বাছাই করে তারা আমাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় অভিযান চালায়। কিন্তু পরে তথ্যের গরমিল দেখিয়ে আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে আসার পর এখন প্রতিদিন থানায় এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করছি, কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিনের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাচ্ছি না।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, “নিখোঁজ ছাত্র আতাউল্লাহকে উদ্ধারের জন্য আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তার বাবার দেওয়া তথ্যের কিছু বিভ্রান্তি থাকায় আটক ব্যক্তিদের পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও তদন্ত চলমান রয়েছে।