পটুয়াখালীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির গাছ কেটে মাটি ভরাট ও ভেরীবাঁধ নির্মাণের অভিযোগ
নিজেস্ব প্রতিবেদক|২২:১৭, মে ১৪ ২০২৬ মিনিট
পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে রাতের আঁধারে প্রবেশ করে গাছ কেটে মাটি ভরাট ও ভেরীবাঁধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, জমির মালিকের অনুমতি ছাড়াই ভেকু মেশিন দিয়ে বনজ বাগান ধ্বংস করে কাজ চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পটুয়াখালী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের মিঠাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ হাওলাদারের মালিকানাধীন প্রায় ৬১ শতাংশ জমিতে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর আগে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ গাছের বাগান গড়ে তোলা হয়। গত ৫ মে গভীর রাতে পাউবোর একটি প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ভেকু মেশিন নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে। এ সময় জমির মালিকের অনুমতি ছাড়াই গাছ কেটে ফেলে মাটি কেটে ভেরীবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় জমির মালিক পরিবার জেলা শহরে অবস্থান করায় এই সুযোগ নেয় সংশ্লিষ্টরা। রাতের বেলায় কাজ করায় স্থানীয়দের অনেকেই প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে সকালে গিয়ে তারা জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পান।
আব্দুল লতিফ হাওলাদারের ছেলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের পরিবারের কেউ সেখানে না থাকার সুযোগে গভীর রাতে জমিতে ঢুকে ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে আমাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুরুতে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলেও এখন উল্টো আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি প্রকল্পের নামে ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখল করে এভাবে কাজ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাতের বেলায় মেশিন এনে কাজ করা হয়েছে। তারা গাছ কাটার ঘটনাও দেখেছেন। তবে জমির মালিকের অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত জমিতে এভাবে কাজ করা অনৈতিক ও বেআইনি বলেও মন্তব্য করেন তারা।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ভেরীবাঁধ নির্মাণ জনস্বার্থে হতে পারে, কিন্তু এজন্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। জমির মালিকের অনুমতি না নিয়ে গাছ কেটে ফেলা এবং জমি নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ হাওলাদার বলেন, “আমার জমিতে কাজ করার আগে কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। কোনো ধরনের নোটিশও দেওয়া হয়নি। আমি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, “আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ কোথায় এবং কীভাবে হয়েছে তা যাচাই করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত জমিতে কাজ করার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালী সদর থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে যদি ঠিকাদারি অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকে, তবে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।