বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে কমপ্লিট শাটডাউন
এ.এ.এম হৃদয়|২৩:০৯, মে ১২ ২০২৬ মিনিট
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে চলমান অনির্দিষ্টকালের শাটডাউনে দ্বিতীয় দিনের মতো অচলাবস্থা বিরাজ করছে। মঙ্গলবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। রেজিস্ট্রার ভবন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর ও হিসাব বিভাগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি রাজধানীতে অবস্থান করছেন। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা এদিন কোনো জমায়েত বা কর্মসূচি পালন করেননি।
আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তারা সাধারণ সভা করেছেন। সভা থেকে দুটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো- সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত অভিন্ন নীতিমালার আলোকে নতুন সংবিধি প্রণয়নের উদ্যোগ বাতিল এবং ২০১৫ সালের বিদ্যমান পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী কর্মরত সব শিক্ষকের পদোন্নতি নিশ্চিত করা।
জানা গেছে, বর্তমানে ২৪ জন শিক্ষক অধ্যাপক, ৩০ জন সহযোগী অধ্যাপক এবং ৬ জন সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। এ দাবিতে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকরা কর্মবিরতি ও শাটডাউন কর্মসূচি পালন শুরু করেন। পরে ৫ মে সিন্ডিকেট সভায় সমাধানের আশ্বাসে আন্দোলন শিথিল করা হলেও ৯ মে অনুষ্ঠিত সভায় পদোন্নতির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় সোমবার থেকে ফের অনির্দিষ্টকালের শাটডাউন শুরু করা হয়। একই সঙ্গে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গত জানুয়ারিতে জারি করা অভিন্ন নীতিমালার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হবে। এজন্য নতুন সংবিধি প্রণয়নে অন্তত দুই মাস সময় প্রয়োজন।
তবে শিক্ষকদের দাবি, ইউজিসির নতুন নীতিমালা জারির ছয় মাস আগেই পদোন্নতি বোর্ডের বৈঠক ও সুপারিশ সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে নতুন নীতিমালা তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে বাধা হওয়ার সুযোগ নেই।