পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ভিসি ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে চলা অবস্থান কর্মসূচিতে বহিরাগতের হামলা, হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১১ মে) সকাল ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হচ্ছেন প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান, ডীন, পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ,প্রফেসর ড. আব্দুল মালেক, প্রোভোস্ট প্রফেসর ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ, প্রফেসর আবুল বাশার খান,প্রক্টর প্রফেসর ড. খোকন হোসেন, ডিন, সিএসই অনুষদ, প্রফেসর ড. আব্দুর রশিদ, সাবেক ডিন, এনএসভিএম অনুষদ ,প্রফেসর ড. স্বপন কুমার ফৌজদার, এএনএসভিএম অনুষদ, প্রফেসর ড. এম এইচ কাউসার, এএনএসভিএম অনুষদ , প্রফেসর ডঃ তন্বী চন্দ, এএন এস ভিএম অনুষদ, আহত কর্মকর্তাদের . মোঃ জসিম উদ্দিন, পরিচালক, অর্থ ও হিসাব বিভাগ , ড. হাচিব মো: তুষার, পরিচালক, অফিস অব দিইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ারস, ড. শফিকুল ইসলাম, ডেপুটি রেজিস্টার আরিফুর রহমান, প্রধান খামার তত্ত্বাবধায়ক,মাহমুদ আল জামান, সহকারী রেজিস্টার , ড. আমিনুল ইসলাম, ডেপুটি রেজিস্টার, . ড. রাহাত মাহমুদ, ডেপুটি রেজিস্টার ,আবু বকর সিদ্দিক, পরিচালক, টিএসসি রিয়াজ কাঞ্চন, সহকারী রেজিস্টার ,এ কে এম শাহাদাত হোসেন মিয়া, সেকশন অফিসার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের শিক্ষক, কর্মকর্তা- প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ভিসির অপসারণ দাবি এবং প্রো-ভিসি অধ্যাপক হেমায়েত জাহানের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ভিসির সমর্থনে দুমকি উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব রিপন শরিফের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এসময় তারা প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে আন্দোলনকারীদের মারধর শুরু করে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, বহিষ্কৃত উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রিপন শরীফের নেতৃত্বে আসা বহিরাগতরা, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া, হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ দিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং বিচারের দাবীতে বিশ্ববিদ্যারয়ের ডীন কাউন্সিল এবং শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদ পৃথক পৃথক সভা করে ক্লাস,পরীক্ষা সহ সবধরনের কর্মসূচী থেকে অংশগ্রহন বিরত থাকছেন বলে আজ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি সভা কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন কাউন্সিলের প্রফেসর ড.মো: আতিকুর রহমান ডীন পোস্টগ্রাজেুয়েট (স্টাডিজ) লিখিত বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ,পরীক্ষা বর্জনসহ সব ধরনের প্রশাসনিক কর্মকান্ড বন্ধ থাকবে বলে জানান।
ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পরও ঘটনাস্থলে পুলিশ না পৌঁছানোর অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।এ দিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারন ছাত্ররা তাৎক্ষনিক এক প্রতিবাদ মিছিল করে ,দুমকী –পটুয়াখালী সড়ক ঘন্টাকালব্যাপী অবরোধ করে রাখে। অভিযোগের বিষয়ে ভিসি ড. কাজী রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করনেনি।বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও হামলার ঘটনায় তারা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন তারা।