প্রায় শতভাগ লক্ষ্য অর্জনের মধ্য দিয়ে বরিশালে হাম-রুবেলা প্রতিরোধী টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ হলো। গত ২০ এপ্রিল থেকে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কেন্দ্রে হাম-রুবেলা প্রতিরোধী এ টিকাদান কার্যক্রমের সূচনা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় বরিশাল বিভাগের ৪২টি উপজেলার ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩৮টি শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্য স্থির করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৫ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এ টিকাদানের আওতায় আনার লক্ষ্য স্থির করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩৮টি শিশুর মধ্যে ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭২টি শিশুকে এবার হাম-রুবেলার টিকা প্রদান সম্ভব হয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, লক্ষ্যমাত্রার ৯৮.৬০ ভাগ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। প্রখর রোদ ও অতি বর্ষণের মধ্যেও টিকাদানের এ সাফল্যকে অনেক বড় অর্জন বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়াও এবার হাম ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই বরিশাল অঞ্চলের ৪টি উপজেলায় সবার আগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরবর্তীতে বরিশালসহ দেশের যে ৪টি সিটি করপোরেশন এলাকায় হামের প্রকোপ বেশি, সেখানেও বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পালন করে সরকার। গত ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশেই হাম-রুবেলার যে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, তার সফল সমাপ্তি ঘটেছে রোববার রাতে।
এ কর্মসূচির আওতায় বরিশাল মহানগরীতে ৯৯.৪৫ ভাগ শিশুকে হাম-রুবেলা প্রতিরোধী টিকা প্রদান সম্ভব হয়েছে। এ মহানগরীতে ৪৩,৫০৬ শিশুর মধ্যে ৪৩,২৬৮টি শিশুকে হাম প্রতিরোধী টিকা প্রদান সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বরিশাল জেলার ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৪টি শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা প্রদান সম্ভব হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৮.৫৮ ভাগ বলে জানা গেছে। পটুয়াখালীতেও ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৫৪টি শিশুকে এ টিকা প্রদান সম্ভব হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৯.২৮%। দ্বীপজেলা ভোলায় ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৮টি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকাদানের লক্ষ্য স্থির থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২,৮৭,১৮৫ শিশুকে এ টিকা প্রদান সম্ভব হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৯.০৫%।
এবারের হামের টিকাদানে পিরোজপুরের অবস্থান সর্বনি¤েœ। লক্ষ্য অর্জনের হার ৯৭.৫৪ ভাগ। এ জেলায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৫১৮টি শিশুকে হাম টিকা প্রদানের লক্ষ্য স্থির থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১,২৩,৪০৪টি শিশুকে এ টিকা প্রদান সম্ভব হয়। এ জেলায় টিকাদানের সাফল্য বিভাগের ৬টি জেলার মধ্যে সর্বনি¤œ। বিভাগের সবচেয়ে ছোট, ৪ উপজেলার ঝালকাঠিতে ৬৬,৩৪৯টি শিশুকে হাম প্রতিরোধী টিকাদান লক্ষ্যের বিপরীতে ৬৫,৩৭৪টি শিশুকে টিকা প্রদান সম্ভব হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৮.৬৮%। অপরদিকে স্বাস্থ্য খাতে বরিশালের সবচেয়ে অবহেলিত বরগুনা জেলার ৯৭,২৪৫টি শিশুকে টিকা প্রদান লক্ষ্যের বিপরীতে ৯৪,৯৬৮টি শিশুকে হাম প্রতিরোধী টিকা প্রদান সম্ভব হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৭.৬৮%।
তবে সার্বিকভাবে বরিশাল বিভাগে টিকা প্রদানের হার ৯৮.৬% বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, এবার ৫ মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত শিশুদের মধ্যেই হামের উপসর্গ অধিক মাত্রায় লক্ষণীয় হওয়ায় এ বয়সের শিশুদেরই টিকাদানের প্রাথমিক লক্ষ্য স্থির করে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সে লক্ষ্যে ৩ দফায় বরিশালে এ বয়সী প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্বশীলরা। এ টিকাদানের সফল সমাপ্তির ফলে খুব শিগগিরই বরিশালসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলেই হামের প্রকোপ বহুলাংশে হ্রাস পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীলরা।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বরিশাল বিভাগে সোমবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৫ হাজার সন্দেহভাজন হাম রোগী চিকিৎসার জন্য আসলেও সাড়ে ৪ হাজারেরও কিছু বেশি রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের। তবে হামসন্দেহভাজন এ বিপুল রোগীর মধ্যে এ পর্যন্ত ১৩০ জনের দেহে হামের জীবাণু নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর মৃতদের মধ্যে ৩ জন নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলেও বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত বরিশালের সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে ৪ হাজারেরও বেশি রোগী সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে।