কুয়াকাটায় শত কোটি টাকার সরকারি খাস জমি অনিয়মে বন্দোবস্ত নিয়ে বিক্রির পাঁয়তারা
নিজেস্ব প্রতিবেদক|২২:০৯, মে ১১ ২০২৬ মিনিট
কুয়াকাটা পর্যটন এলাকার শত কোটি টাকার সরকারি খাস জমি অনিয়মের মাধ্যমে বন্দোবস্ত নিয়ে একটি মহল বিক্রির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এতে পর্যটন এলাকার উন্নয়ন ব্যহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অকৃষি ও গুরুত্বপূর্ণ এসব খাস জমি ভূমি অফিসের অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে কাগজপত্রে বন্দোবস্ত দেখিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।এছাড়া দুস্থ ও ভূমিহীনদের বরাদ্দ দেয়া জমি জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ারও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনিয়মের মাধ্যমে বন্দোবস্ত দেয়া সরকারি খাস জমি উদ্ধারে সরকার পক্ষ থেকে বন্দোবস্ত বাতিলের লক্ষ্যে মামলা (নং-৭৩/১০) দায়ের করা হলে পরবর্তীতে বন্দোবস্তটি বাতিল হয়। তবে আইনী জটিলতায় এখনও তা দখল মুক্ত করা যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭৪-৭৫ সালে দেওয়া কিছু বন্দোবস্তের জমি ২০০৯ সালে রেজিস্ট্রি করা হয়, যা শুরু থেকেই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমানে ওইসব জমির মালিকের কাছ থেকে এক-তৃতীয়াংশ চুক্তিতে বিক্রীর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মহলে তদবির চালাচ্ছে একটি চক্র।
তবে এসব জমি বিক্রির নেপথ্যে কুয়াকাটার বেশ কয়েকজন ভূমি দস্যু ও রাজনৈতিক নেতার নাম উঠে এসেছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে, কবুলিয়ত রেজিস্ট্রির আগেই অনেক জমির মিউটেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। এবং এতে ভূমি অফিসের কিছু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের যোগসাজশ রয়েছে। যদিও দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ওই সব জমিতে বসবাস করে আসছে বহু পরিবার। কুয়াকাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড হোসেনপাড়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ড পাঞ্জুপাড়া এবং ৩ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহাসড়কসংলগ্ন এলাকাতেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কুয়াকাটা পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ড হোসেনপাড়া এলাকায় ১৯৭৪ সালের কেস নং-১৯২-কে’র মাধ্যমে একটি জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হলেও তা ২০০৯ সালে রেজিস্ট্রি করা হয়।
পরে সরকার ওই বন্দোবস্ত বাতিল করলে সংশ্লিষ্ট চক্র নতুন করে ২২৯১ নম্বর এসএ খতিয়ান খুলে আপিল করেছে বলে জানা গেছে। কুয়াকাটা মৌজার এসএ দাগ নম্বর ৫৮, ৫৩, ৬৪ ও ৬৮ এর দেড় একর জমির মালিক হিসেবে হাকিম নামের এক ব্যক্তির নাম থাকলেও বাস্তবে সেখানে প্রায় ১৯টি পরিবার বসবাস করছে। এসব জমি উদ্ধার করে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে হাকিমের সাথে চুক্তিপত্র করে চক্রটি। এ জমিতে বসবাসকারী ভূমিহীন শহিদ মিস্ত্রি বলেন, এ জমিতে প্রায় ৬০-৭০ বছর ধরে আমার বাপ-দাদার বসবাস। এখন একটি মহল জমি বিক্রির জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। অপর বাসিন্দা দুলাল বলেন, আমরা বহু বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। জমিতে আমাদের বসতবাড়ি ও গাছপালা রয়েছে।
এদিকে লতাচাপলী মৌজার ১৩৪৬ খতিয়ানের প্রায় ৪ একর ৭৭ শতক খাস জমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের ঘটনাও সামনে এসেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা।অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া বন্দোবস্ত কেস ও মিসকেস নম্বর তৈরি করে একটি চক্র ওই জমি নিজেদের নামে নিয়ে নেয়। যা বন্দোবস্তের সময় বন্দোবস্ত গ্রহীতার বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর। এ ঘটনায় ২০১১ সালে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, কুয়াকাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। এখানে খাস জমি দখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে সরকারের বড় ক্ষতি হবে।
জালিয়াতির মাধ্যমে যারা জমি দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।তিনি আরও বলেন, সরকারি জমি উদ্ধারে জরুরি অভিযান চালানো না হলে এসব প্রভাবশালী চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টির সত্যতা ও সরকারি নথিপত্র যাচাই করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট এসি ল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হবে।ু