জাতীয় বাজেটের ২৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ, হামের চিকিৎসায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং টিকায় অনিয়মের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে ছাত্র ফ্রন্টের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১০ মে) বেলা ১১টায় বরিশালের অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার উদ্যোগে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর শাখার আহ্বায়ক সুজন আহমেদ। সমাবেশে বক্তব্য দেন- সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারজানা আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সদস্য ও হোম ইকনমিক্স কলেজের সংগঠক উম্মে হালিমা লাবনী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সদস্য রেজওয়ান হোসেন সিয়াম, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সংগঠক লামিয়া সায়মন, সরকারি ব্রজমোহন কলেজের সংগঠক আবির দেবনাথ জয় প্রমুখ। সমাবেশে নেতারা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে আজ ৫৪ বছর।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র সমাজের রয়েছে এক গৌরবময় সংগ্রামের ইতিহাস। ৫২, ৬২, ৬৯, ৭১, ৯০ এবং সর্বশেষ ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র ইতিহাস রক্তে মাখা। কিন্তু ছাত্র সমাজের এত ত্যাগ-তিতিক্ষার মূল্যায়ন কখনো আমাদের রাষ্ট্র করতে পারিনি। আমরা আমাদের শাসকদের বক্তব্যে প্রতিনিয়ত শুনি শিক্ষা জাতির মেরুদ-, কিন্তু যদি শিক্ষার বাজেটের দিকে তাকাই তাহলে পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করি বাংলাদেশের ইতিহাসে জিডিপির ২ শতাংশের ওপরে শিক্ষা ক্ষেত্রে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে খুবই সময়। এশিয়ার মধ্যে শিক্ষা খাতে সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেওয়া হয় বাংলাদেশে ১.৬৯ শতাংশ। যার ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে শিক্ষার ব্যয়ের বোঝা। নামে-বেনামে বাড়ানো হচ্ছে শিক্ষার খরচ।
শিক্ষাকে পরিণত করা হয়েছে পণ্য। বাজারে আলু-পটলের মতো যার টাকা আছে সে কিনতে পারবে। রাষ্ট্র গত ৫৪ বছরে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের যে উদাহরণ তৈরি করেছে, সেখান থেকে বের হওয়া প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় বাজেটের ২৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবি জানিয়ে এসেছে। সামনের সংসদ অধিবেশনে হবে বাজেটের ওপর, চলতি অর্থবছরে যাতে শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয় বক্তারা দাবি জানান।
এ সময় নেতারা বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি সম্প্রতি সময়ে হাম-রুবেলায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। ইতোমধ্যে ত্রিশ হাজারের বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। সর্বশেষ সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৩৫৩ জন শিশু মারা গেছে। আমরা সেসব শিশুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। কিন্তু একইসঙ্গে হামের টিকাকে কেন্দ্র করে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তারা আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিভাগীয় শিশু হাসপাতালগুলো চালু করা প্রয়োজন, ইউনিয়ন-গ্রাম পর্যায়ে টিকা পৌঁছে দেওয়া, উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং হাসপাতালগুলোতে হাম রোগীদের জন্য হাম-রুবেলা কর্নার চালু করার দাবি জানান বক্তারা।