বরিশালে হাম প্রতিষেধক টিকাদান কর্মসূচি শেষ হলেও থামছে না আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:৪৭, মে ১০ ২০২৬ মিনিট

বরিশালে প্রতিষেধক টিকাদান কার্যক্রম শেষ হয়ে যাওয়ার মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে হামের সংক্রমণ কিছুটা স্থিতিশীল বলে দাবি করা হলেও উপসর্গ নিয়ে রোববারও ১১৯টি শিশু সরকারি হাসপাতালে এসেছে। এর মধ্যে রোববারই ১৯০টি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারি হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে আগত শিশুর সংখ্যা ৫ হাজারে পৌঁছেছে। মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হয়েছে ২৯টি শিশুর নাম। এর মধ্যে মে মাসের প্রথম ১০ দিনেই বরিশালে হামের উপসর্গ নিয়ে ১,৫৬১টি শিশু শুধু সরকারি হাসপাতালে আসার পরে মৃত্যু হয়েছে ৯টি শিশুর। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করা হলেও ইতোমধ্যে হাম সন্দেহে ২৯ শিশুর মৃত্যুর পাশাপাশি ৩টি শিশু নিশ্চিত হামে মৃত্যুবরণ করেছে বলেও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। সন্দেহভাজন প্রায় ৫ হাজার রোগীর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শিশুকে সরকারি হাসপাতালসমূহে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে ৩,৮৪৪টি শিশু। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল বলা হলেও উন্নতির লক্ষণ খুব সুস্পষ্ট নয়। এপ্রিল মাসেই বরিশালের ৪২ উপজেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে যে ২,৮১৬টি শিশু সরকারি হাসপাতালসমূহে আসে, তার মধ্যে ৫১ জনের শরীরে হাম সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ সময়ে যে ১৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে ৩টি শিশু নিশ্চিত হামে মারা গেছে বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। অপরদিকে চলতি মে মাসের প্রথম ১০ দিনেই বরিশালের সরকারি হাসপাতালসমূহে হামের উপসর্গ নিয়ে ১,৫৬১টি শিশু আসলেও তার মধ্যে ৯টি শিশু হাম আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ১০ দিনে বরিশালের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালেই মারা গেছে ৯টি শিশু। এমনকি গত মাসে হাম সন্দেহে ১৫টি শিশুর মৃত্যুর পরে চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনেই আরও ৯টি শিশুর মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ। তবে এসব শিশুর শরীরে হাম সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো ধারণা এখনো পাওয়া যায়নি। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, রোববার দুপুরের পূর্ববর্তি ২৪ ঘণ্টায় বরিশালের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালসমূহের বহির্বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আগত রোগীর সংখ্যা ১৯৯-এ উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে বরিশালের সরকারি হাসপাতালসমূহে হাম সন্দেহে আগত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৪,৩৮৭ জনে। আর এ পর্যন্ত ভর্তিকৃত রোগীর মধ্যে ৩,৮৪৪ জনই সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে গেছে। এদিকে প্রথম পর্যায়ে বরিশাল বিভাগের ৪টি উপজেলা এবং পরে বরিশাল মহানগরী ছাড়াও গত ২০ এপ্রিল থেকে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে হামের টিকা প্রদানে যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল, রোববার দুপুরে তা শেষ হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে প্রায় ৯৯ ভাগ শিশুকে হামের প্রতিষেধক টিকা প্রদান সম্ভব হয়েছে। এদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে রোববারও হামের উপসর্গ নিয়ে দেড় শতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এই সরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানটিতে ইতোমধ্যে হাম সন্দেহে প্রায় দুই হাজার শিশুকে ভর্তি করা হলেও ১,৭৬৯ জনকে ঘরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই হাসপাতালে হাম সন্দেহে ইতোমধ্যে ১৯টি শিশু মারা গেলেও তার মধ্যে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। দক্ষিণাঞ্চলে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম উপসর্গ নিয়ে যে ২৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তার ১৯ জনই শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।