অবশেষে আইনের জালে ঝালকাঠির ‘জর্দা শামীম’ বিদেশি মদসহ রংপুরে গ্রেফতার

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:২৪, মে ০৭ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : ​দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার ছত্রছায়ায় দাপিয়ে বেড়ানো ঝালকাঠির বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তি শামীম আহমেদ ওরফে ‘জর্দা শামীম’ অবশেষে আইনের জালে ধরা পড়েছেন। রংপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে বিদেশি মদসহ তিনি ও তার ছোট ভাই আরিফ গ্রেফতার হয়েছেন। এ ঘটনায় ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ​ ​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৬ মে) গভীর রাতে রংপুর সদর উপজেলার একটি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয় বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুরের পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ​ ​ঝালকাঠি পৌর এলাকার পূর্ব কাঠপট্টি মহল্লার মৃত শাহাবুদ্দিন মিয়ার ছেলে শামীম আহমেদ স্থানীয়ভাবে ‘জর্দা শামীম’ নামেই পরিচিত। ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সহসভাপতি পদের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় তিনি একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি নিজস্ব ক্যাডার সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় এবং অবৈধ টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ​ ​জর্দা শামীমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযোগ হলো কথিত ‘টর্চার সেল’ পরিচালনা। অভিযোগ আছে, তার অবাধ্য হওয়া নারী-পুরুষদের সেখানে আটকে রেখে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। অস্ত্র প্রদর্শন ও ক্যাডার বাহিনী লালন-পালনের মাধ্যমে তিনি এলাকায় ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। প্রশাসনের নীরবতা ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে এতদিন তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বলে সাধারণ মানুষের দাবি। ​ ​জর্দা শামীমের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঝালকাঠির সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে “অশুভ শক্তির পতন” ও “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা” হিসেবে অভিহিত করেছেন। ​স্থানীয়রা বলছেন, এই গ্রেফতার শুধু একটি মাদক মামলার বিষয় নয়; বরং দীর্ঘদিনের শোষণ ও ত্রাসের রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এখন তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।