ভোলায় নারিকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে ২ পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১
নিজেস্ব প্রতিবেদক|২১:৫৬, মে ০৭ ২০২৬ মিনিট
ভোলার লালমোহনে নারিকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মো. মাসুদ হাওলাদার (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৬ মে) দুপুরে লালমোহন পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চর ছকিনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) নিহতের মেয়ের করা হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মৃত মাসুদ লালমোহন পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চর ছকিনা এলাকার আলী আজগরের ছেলে। গ্রেপ্তাররা হলেন আক্তার (৪০), রেশমা (৩০), তানভীর (১৮) ও ফিরোজ (৪০)। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা এবং নিহতের প্রতিবেশী। পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃত মাসুদ ও প্রধান অভিযুক্ত মো. আকতার একই বাড়ির বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
বুধবার দুপুরে মো. আকতার লোকজন নিয়ে মাসুদের জমিতে থাকা গাছ থেকে জোরপূর্বক নারিকেল পাড়ার চেষ্টা করেন। এ সময় নিহতের মেয়ে মাসুমা তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিত-া সৃষ্টি হয়। এ সময় দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে মাসুদসহ তার পরিবারের ছয়জন ও আক্তারের পরিবারের তিনজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহতদের উদ্ধার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত মাসুদ হাওলাদারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে বরিশালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের মেয়ে মাসুমা বাদী হয়ে আকতারকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে লালমোহন থানায় হত্যা মামলা করেন। লালমোহন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার বলেন, জমির বিরোধ ও নারিকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মেয়ে মাসুমা ১৩ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। এ মামলার প্রধান আসামিসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে। মাসুদ হাওলাদার আরো বলেন, গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।