পটুয়াখালীতে ১৫ বছর ধরে সংস্কারহীন রাস্তা জনদুর্ভোগ চরমে
এ.এ.এম হৃদয়|২১:৪৯, মে ০৫ ২০২৬ মিনিট
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী বাইতুল মাল আকসা মসজিদ থেকে শুরু করে আব্দুল গফুর হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি এখন এলাকাবাসীর কাছে এক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে কোনো সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার ইটের সলিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা আর কাদা-পানিতে সড়কটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১০ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ১.৪৫ কিলোমিটার এই সড়কটির উন্নয়নের জন্য প্রায় ২৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকার একটি প্রাক্কলন অনুমোদন করা হয়েছিল।
নথিতে এইচবিবি দ্বারা উন্নয়নের কথা থাকলেও বর্তমানে রাস্তাটির দশা দেখে বোঝার উপায় নেই যে এখানে কখনো মানসম্মত কাজ হয়েছিল।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার অধিকাংশ স্থানের ইট সরে গিয়ে মাটি বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও ইট ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় রাস্তার মাঝখান উঁচু হয়ে দুপাশ দেবে গেছে, ফলে রিকশা, ভ্যান বা মোটরসাইকেল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ এবং স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। কৃষিপণ্য পরিবহন করা একেবারেই অসম্ভব।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তা দিয়ে এখন চলাচল করা আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা শুরু হলে দুর্ভোগের সীমা থাকে না। কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া বা জরুরি অবস্থায় রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। আমরা বারবার জনপ্রতিনিধিদের জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জরুরি ভিত্তিতে এই বিধ্বস্ত রাস্তাটি পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) বা পাকাকরণের মাধ্যমে আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
রাস্তাটির বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থা ও জনদুর্ভোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) চন্দন কুমার আশ্বস্ত করে বলেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। জনদুর্ভোগ লাঘবে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে একটি টেকনিক্যাল রিপোর্ট তৈরি করব।
সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে আধুনিক মানের পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো সুপারিশ পাঠানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করছি, দ্রুতই ইতিবাচক সাড়া মিলবে এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটবে।