মির্জা রিমন ॥ বরিশাল নগরীর দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসনে নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মেরামত ও উন্নয়নের মাধ্যমে রুপাতলী ১৬ এম.এল.ডি (মিলিয়ন লিটার পার ডে) সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টকে পুনরায় সচল করা হয়েছে। বুধবার ২৯ এপ্রিল দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রুপাতলী সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি বরিশাল নগরীর অন্যতম প্রধান পানি সরবরাহ অবকাঠামো ছিল। ‘১৬ এম.এল.ডি’ সক্ষমতার এই প্ল্যান্টটি প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ লিটার পানি পরিশোধন করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতে সক্ষম। মূলত নদী বা খাল থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা পানি আধুনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিশোধন করে তা সুপেয় পানিতে রূপান্তর করা হয়।
জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে রূপাতলীতে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালে কাজ শেষ হলেও হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘকাল অচল পড়ে ছিল। সম্প্রতি ৪ কোটি ৭ লক্ষ ১২ হাজার ১৪৫ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় মঞ্জুর করে প্লান্টটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেন বর্তমান প্রশাসক।
এই প্ল্যান্টে সাধারণত কয়েকটি ধাপে পানি শোধন করা হয়। প্রথমে কাঁচা পানি সংগ্রহ করে কোয়াগুলেশন ও ফ্লকুলেশন প্রক্রিয়ায় ময়লা পৃথক করে ট্যাঙ্কে স্থিতিকরণ ও ফিল্টারিং করা হয়। সর্বশেষ জীবাণুনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে পানিকে নিরাপদ করে সাপ্লাই দেয়া হয়। আধুনিকায়নের ফলে এসব ধাপ আরও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্ল্যান্টটির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, পাইপলাইন সংস্কার, ফিল্টার ইউনিট উন্নয়ন এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়। পাশাপাশি উৎপাদন ক্ষমতা ধরে রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। রুপাতলী ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পুনরায় চালুর মাধ্যমে আমরা সেই লক্ষ্য পূরণে বড় একটি ধাপ এগিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনের ফলে প্ল্যান্টটির কার্যকারিতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে। পাশাপাশি পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করতে ভবিষ্যতে নতুন পানি শোধনাগার স্থাপন, পাইপলাইন সম্প্রসারণ এবং স্মার্ট মনিটরিং সিস্টেম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিকে প্ল্যান্টটি চালু হওয়ায় বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে করছেন নগরবাসী। বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সময় এই প্ল্যান্টটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকে, তবে রুপাতলী পানি শোধনাগারটি নগরীর পানি সংকট দূরীকরণে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান হয়ে উঠতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী, প্রধান প্রকৌশলী মোঃ হুমায়ুন কবির, পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।