নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে বাসভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছে পরিবহন কর্তৃপক্ষ। কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই জনপ্রতি ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনভর বরিশালের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, নির্ধারিত ৫৫০ টাকার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে ৬০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। একাধিক পরিবহনের কাউন্টার ঘুরে একই চিত্র পাওয়া গেছে।
শ্যামলী পরিবহন, হানিফ পরিবহন ও সাকুরা পরিবহন সবগুলোতেই বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। যাত্রীরা জানান, কোনো পূর্ব ঘোষণা বা সরকারি প্রজ্ঞাপন ছাড়াই হঠাৎ করে এই ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মনিরুজ্জামান খোকন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, সব সময় ৫৫০ টাকায় ঢাকা যাই। কিন্তু হঠাৎ করেই ৬০০ টাকা নিচ্ছে। প্রতিটি যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা এক ধরনের হয়রানি।
খাইরুন্নাহার আসমা এক মহিলা যাত্রী জানান, কাউন্টারে বলছে তেলের দাম বেড়েছে, তাই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সরকার তো এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, আগে ৫৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো। এখন কেন ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করে বলতে পারছি না। বিষয়টি পরিবহন মালিকরাই ভালো বলতে পারবেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোনোভাবেই বাসভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন, “বর্তমান নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় চলছে? প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই কি এমন অনিয়ম?
যাত্রীদের দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধ করে নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।