কিশোরগঞ্জে বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়েছে। এর ফলে জনজীবনে ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে অটোরিকশার ব্যাটারি একটানা চার্জ দিতে না পেরে বিপাকে চালকরা। অনেক গাড়ির ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছে। আবার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার খরচও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যাত্রীদের ভাড়ার ওপর।
হোসেনপুর উপজেলার আড়াইবাড়িয়া এলাকার অটোচালক মুখলেছুর রহমান জানান, তারা একটি গ্যারেজে একসঙ্গে অন্তত ১০০ চালক তাদের গাড়ির ব্যাটারি চার্জ দিতে পারতেন। এখন ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে ৪০টির মতো ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাচ্ছে।
একটি ব্যাটারি একটানা ৮ ঘণ্টা চার্জ দিতে হয়। কিন্তু হোসেনপুর পৌর এলাকায় দিনে ৬ ঘণ্টা, রাতে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। আবার গ্রাম এলাকায় দিনে ও রাতে চার ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। এতে একটি ব্যাটারি দুই দফায় চার্জ দিতে হয়।
একটি ব্যাটারির দাম ৪০ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে জানিয়ে মুখলেছুর রহমান বলেন, ‘ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেলে গাড়ি চালাব কী করে? আর গাড়ি না চললে তো সংসার চলবে না।’
এসব কারণে সড়কে অটোরিকশা কমে গেছে। আবার ব্যাটারি চার্জের খরচও বেড়েছে। একটি ব্যাটারি চার্জ দিতে আগে নেওয়া হতো ৮০ টাকা। এখন নেওয়া হচ্ছে ১২০ টাকা। যে কারণে ভাড়াও বাড়াতে হয়েছে বলে জানান মুখলেছুরসহ অন্য অটোরিকশা চালকরা।
গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা শহরের ব্যস্ততম স্টেশন রোড এলাকায় দেখা যায়, আগের তুলনায় অটোরিকশা ৩০ শতাংশও চলছে না। আগে দুপুরের দিকে অটোরিকশার চাপে পথচারীরা সহজে রাস্তা পার হতে পারতেন না। এখন সড়ক প্রায় ফাঁকা।
জানা গেছে, পিডিবি এবং পল্লী বিদ্যুতে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ জানান, কিশোরগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে সাড়ে ২৪ মেগাওয়াট।
পাওয়া যাচ্ছে ২০ মেগাওয়াট। গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকার ফিডারে লোডশোডিং তুলনামূলক কম। তবে জ্বালানি সংকটে গত বৃহস্পতিবার থেকে সব জায়গায় পালাক্রমে টানা এক ঘণ্টা লোডশেডিং করার জন্য সরকার থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুতের মহাব্যবস্থাপক মো. আতিকুজ্জামান জানান, কিশোরগঞ্জের পল্লী বিদ্যুতে ৯০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৬০ মেগাওয়াটের মতো। যে কারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।