শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান দেশের জন্য কাজ করেছেন : সরোয়ার

এ.এ.এম হৃদয় | ২১:৪৭, এপ্রিল ১১ ২০২৬ মিনিট

বরিশাল সদর (৫) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেছেন, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যারা দেশের জন্য অবদান রেখে গেছেন, তারা ইতিহাসে চিরঅম্লান হয়ে থাকবেন—তাদের কখনো ভোলা যাবে না। শনিবার (১১ এপ্রিল) সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে উত্তরণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জীবনানন্দ মেলা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয়—তুমি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নেবে, নাকি জীবনানন্দ দাশকে নেবে—আমি জীবনানন্দ দাশকেই বেছে নেব। কারণ, তিনি আমাদের বরিশালের গর্ব, আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। তার কবিতার মাধ্যমে বরিশালের প্রকৃতি, রূপ ও সৌন্দর্য বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত হয়েছে।” সরোয়ার আরও বলেন, জীবনানন্দ দাশ শুধু প্রকৃতির কবি নন, তিনি মানবমুক্তি, নিঃসঙ্গতা ও অস্তিত্বের গভীর সংকটকে তার সৃষ্টিতে তুলে ধরেছেন। তার কবিতা মানুষকে আত্মচিন্তা ও মানবিকতার পথে পরিচালিত করে। আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তার সাহিত্যকে ধারণ করতে পারি, তাহলে আমাদের সমাজ আরও আলোকিত হবে।” তিনি বলেন, ” বরিশাল শুধু জীবনানন্দ দাশের জন্মস্থান নয়; এই মাটিতে জন্ম নিয়েছেন অশ্বিনী কুমার দত্ত, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, সুফিয়া কামালসহ অসংখ্য মনীষী। তাদের অবদান আমাদের জাতীয় জীবনে অপরিসীম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা তাদের যথাযথভাবে স্মরণ করি না। নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের চিন্তা-চেতনা তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব।” ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক ৫ই আগস্টে স্বৈরাচারের পতন —এই সবকিছু আমাদের জাতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যারা এসব নিয়ে লেখে না, ভাবেনা বা ধারণ করে না, তারা প্রকৃত অর্থে সাহিত্যিক হতে পারে না। সাহিত্যিকদের দায়িত্ব হচ্ছে সত্যকে তুলে ধরা।” রাজনীতি ও সংস্কৃতির সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “সংস্কৃতি ছাড়া রাজনীতি টিকে থাকতে পারে না। সংস্কৃতিই আমাদের উন্নয়ন ও মানবিকতার মূল প্রেরণা। একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে তার সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে হবে।” শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারণা তুলে ধরেন এবং কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার উদ্যোগে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “আমি নদীর ওপারে শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। সেখানে আমি সবসময় শিক্ষার্থীদের বলি—কবি ও সাহিত্যিকদের সম্মান করতে হবে, তাদের সৃষ্টিকে লালন করতে হবে। কারণ সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমেই একটি জাতি তার পথ খুঁজে পায়।” অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “এ ধরনের আয়োজন আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চাকে সমৃদ্ধ করে এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করে। এমন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।” এসময়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, উত্তরণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মাহফুজ নুসরাত, জীবনানন্দ মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক জয় মালীসহ আরও অনেকে।