বরগুনায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, শতাধিক স্পটে নিষিদ্ধ পণ্যের রমরমা বাণিজ্য

দেশ জনপদ ডেস্ক | ২২:২৪, মার্চ ১০ ২০২৬ মিনিট

বরগুনা জেলায় নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় দ্রব্যের কেনাবেচা ও সেবনের বিস্তার উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এই অবৈধ কারবার। স্থানীয়দের অভিযোগ- জেলার শতাধিক স্পটে প্রকাশ্য কিংবা আড়ালে প্রতিদিনই চলছে লেনদেন। আর এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর ও তরুণদের একটি বড় অংশ, যা জেলায় নতুন করে ‘কিশোর গ্যাং’ সংস্কৃতির জন্ম দিচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা শহরের খাজুরতলা, লাকুরতলা, কালীবাড়ি সড়ক, ডিকেপি সড়ক, ক্রোক ও স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকাসহ অন্তত ২০টি পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে এই কারবার চলছে। শুধু শহর নয়, সদর উপজেলার হেউলিবুনিয়া, বাঁশবুনিয়া, গৌরীচন্না এবং এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারেও এই সিন্ডিকেট সক্রিয়।
একই চিত্র দেখা গেছে আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলায়। আমতলী বাজার, তালতলীর নিশানবাড়িয়া, পাথরঘাটার চরদুয়ানী এবং বেতাগীর কাজীরাবাদসহ বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদ এখন এই চক্রের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, বড় চালানের কারবারিরা এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে কিশোর ও তরুণদের বাহক হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে করে খুচরা বিক্রেতা ধরা পড়লেও মূল হোতারা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। ফলে পাড়া-মহল্লায় কিশোরদের ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি হচ্ছে, যারা তুচ্ছ ঘটনায় লিপ্ত হচ্ছে সহিংসতায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘আসক’ ফাউন্ডেশন বরগুনা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, এটি এখন সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। কিশোররা দ্রুত অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ছে, যা পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামালের মতে, সামাজিক অস্থিরতা রোধে এখন কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ জরুরি। বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আলী হায়দার রাসেল জানান, নিষিদ্ধ পণ্যের কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ (পিপিএম) বলেন, নিষিদ্ধ দ্রব্যের বিস্তার রোধে জেলা পুলিশ অত্যন্ত সোচ্চার। ইতোমধ্যে আমাদের ১৮টি টিম নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।