বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়লেও চলে বিট বাণিজ্য!
নিজেস্ব প্রতিবেদক|১৯:৫৯, মার্চ ১০ ২০২৬ মিনিট
দীর্ঘদিন যাবত ঝিমিয়ে পড়েছে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম। মাদক নির্মূল কিংবা অপরাধ দমনে এই দপ্তরের ভূমিকা কমলেও থেমে নেই কতিপয় কর্মকর্তাদের বিট বাণিজ্য ও আটক বাণিজ্য। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে মাদকে সয়লাব বরিশাল জেলা ও মহানগরীর এলাকা। নগরীর অলিতে গলিতে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। এছাড়া জেলা উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে মাদকের ভয়াল আকার ধারন করেছে। এক সময়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে মাদকের বড় বড় চালান উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার দেখা গেলেও গত এক বছর যাবত দেখা যাচ্ছেনা মাদক বিরোধী তেমন কোনো অভিযান।
অভিযোগ রয়েছে- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলার সাব-ইন্সপেক্টর জসিম উদ্দিনের বিট বাণিজ্যের কারণে কমছে মাদক বিরোধী অভিযান। নগরীর প্রতিটি মাদকের স্পট থেকে মাসোয়ারা তোলেন সাব-ইন্সপেক্টর জসিম। এছাড়া মাঝে মাধ্যে আটক অভিযান চালালেও টাকার বিনিময়ে আসামিদের সুযোগ সুবিধা দেয় জসিম। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে অভিযানের সময় ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকার বিধান থাকলেও এই জসিম একাই অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় টাকা।
একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অল্প পরিমান মাদক দিয়ে চালান দেয় এই কর্মকর্ত। প্রায় দেড় বছর বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে থেকে সাব-ইন্সপেক্টর জসিম গড়ে তুলেছেন অপরাধের স্বর্গরাজ্য। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। জসিম বলেন, এ সব অভিযোগ সব মিথ্যা। আমি কোনো অপরাধের সাথে জড়িত নই। তবে সরজমিন তথ্য বলছে ভিন্ন কথা।
একাধিক তথ্য সূত্র থেকে জানা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে বরিশাল সদর উপজেলার লাকুটিয়ায় তিনশত পিচ ইয়াবাসহ নয়ন নামের একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে জসিম। তবে তিনলাখ টাকার বিনিময়ে অল্প কয়েকটি ইয়াবাসহ নয়নকে গ্রেফতার দেখায় জসিম। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গাঁজা কামাল ও তার পরিবারে চারজনকে ছয় কেজি গাঁজাসহ আটক করে জসিম। তবে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে গাঁজা কামালের স্ত্রী সালমা, তার মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে ছেড়ে দেয় জসিম। আর ছয় কেজির পরিবর্তে দুই কেজি গাঁজা দেখিয়ে কালামকে মামলায় চালান দেয় জসিম।
অভিযোগ রয়েছে- প্রতিদিনের ডিউটি শেষে নগরীর মাদক স্পট গুলো থেকে বিট বাণিজ্যের টাকা উঠায় জসিম। নগরীর কাউনিয়া বিসিক এলাকার মাদক ব্যবসায়ী সজল, শাওন, জোসনা, কমিশনার গলির ফয়সাল, সাবু, আরজুমনি স্কুলের মুন্নি, পান্থ সড়কের হাতকাটা নিজাম ও জিতুর কাছ থেকে প্রতিমাসে পাঁচ হাজার করে টাকা উঠায় সাব-ইন্সপেক্টর জসিম। নগরীর কেডিসি এলাকার নিলু, মানিক, সোনিয়া, পারুল ও চিকা নাজুর কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নেয় জসিম। এরা সকলেই গাঁজা বিক্রেতা বলে জানা গেছে।
নগরীর ভাটারখাল এলাকায় রয়েছে শিমু, মানিক, আনোয়ার, রুমা ও ফারুক। এদের কাছ থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা নেয় এই জসিম। রসুলপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকার লিপি-পলাশ, সোহাগী, কমলা, ভাঙ্গারি সোহেল, শিল্পির কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা। এছাড়া বাংলা বাজার এলাকার পাইকারি গাঁজা বিক্রেতা রফিকের কাছ মোটা অংকের টাকা নেয় জসিম। বরিশাল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর সিরাজের হুকুমেই এসব জায়গা থেকে মাসোয়ারা তোলা হয় বলে জানান একাধিক মাদক বিক্রেতা। এসব বিষয়ে জানতে ইন্সপেক্টর সিরাজকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি তিনি।
নগরবাসীর দাবি এসব দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তাদের অচিরেই বরিশাল থেকে অপসারন না করা হলে মাদকের ভয়াল আকার ধারণ করবে নগরীতে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর বরিশাল জেলার সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে যে দপ্তরটি সৃষ্টি করেছে তারাই যদি কিছু টাকার জন্য মাদকের সাথে আপোস করে তাহলে সামনের দিনগুলোতে যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেয়া এখন সময়ের দাবি।
এ সব বিষয়ে বরিশাল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তানভির আহমেদ খান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই তবে খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’