পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার এক কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি) বিরুদ্ধে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যহতি নিয়েও স্বপদে থাকার অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সদস্য (মেম্বার) পদে লড়তে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি।
নির্বাচনে হেরে গিয়ে আবারও একই পদেই যোগ দেন। স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যহতি নেওয়ার আবেদন দেওয়ার পরও বহাল তবিয়তে চাকরি করায় বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. আমানুল্লাহ বাহাদুর। তিনি নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীন পদ্ধডুবি কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আমানুল্লাহ বাহাদুর পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৯ মে থেকে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তৎকালীন ও বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান আবেদনটি গ্রহণ ও অনুমোদন করেছিলেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিলে এবং তা গৃহীত হলে তার স্বপদে ফেরার সুযোগ নেই। অথচ আমানুল্লাহ বাহাদুর এখনো ওই পদে চাকরি করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে ৩ নম্বর দেউলবাড়ি দোবড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন আমানুল্লাহ। নির্বাচনে তিনি ২০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এরপরই তিনি আবার ক্লিনিকে কাজে যোগ দেন।
এ বিষয়ে জানতে আমানুল্লাহ বাহাদুরের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, আমরা পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা তো কাউকে বরখাস্ত করতে পারি না।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন। আমি খোঁজখবর নিয়ে জানাব। তবে নিয়ম অনুযায়ী, পদত্যাগপত্র গৃহীত হলে তার চাকরিতে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।