ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবি, ববি ছাত্রদল সম্পাদকসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নিজেস্ব প্রতিবেদক|২১:৪৪, মার্চ ০৫ ২০২৬ মিনিট
কাজ বন্ধ করে দেওয়াসহ ঠিকাদারকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে। গত ১ মার্চ সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মুখে ঠিকাদারের প্রতিনিধি এবিএম আওলাদ হোসেন মনুর (৫৮) ওপর সাবেক ছাত্রদল নেতা আজমান সাকিবের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করে। এই হামলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্তসহ অন্তত ২০ জন অংশ নেন। চাঁদাবাজি এবং ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে মারধরের এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশে একটি অভিযোগ করা হয়েছে।
আলোচিত এ অভিযোগে ববি ছাত্রদল সম্পাদক শান্ত ছাড়াও সাবেক সভাপতি রেজা শরীফ এবং কর্মী আজনান সাকিবসহ (২৩) অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে উল্লেখ আছে, মেসার্স ধারা এন্টারপ্রাইজ এবং বিল্ডার্স কন্ট্রাক্টর্স এন্ড সাপ্লায়ারের প্রতিনিধি এবিএম আওলাদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর সম্মুখে আরসিস সড়ক নির্মাণ কাজ করছিলেন। কাজ শুরুর পর থেকে তার কাছে ছাত্রদল নেতা আরিফ হোসেন শান্ত এবং আজনান সাকিবসহ তাদের কর্মীরা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। কিন্তু ঠিকদার শুরু থেকে তাদের কোনো অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে আসছিলেন, যা নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংক্ষুব্ধ ছিলেন।
ঠিকাদারের প্রতিনিধি এবিএম আওলাদ হোসেন মনু অভিযোগ করেন, বেশ কিছু দিন ধরে আজনান সাবিক এবং শান্তদের নেতৃত্বে চাঁদা দাবি করা হয় এবং কাজ বন্ধ করার হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ১ মার্চ বেলা ১০টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখে ফের চাঁদা দাবি করেন। তখন টাকা দিতে অস্বীকার করলে আজনান সাকিব এবং শান্তদের নেতৃত্বে মনুকে মারধর করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাত্রদল নেতাদের এই চাঁদাবাজির ঘটনাটি একাধিকবার উপাচার্য এবং প্রক্টর, প্রকৌশল দপ্তরকে অবহিত করেও কোনো সুফল মেলেনি। পরিশেষে উপায়ান্ত না পেয়ে তিনি থানা পুলিশের কাছে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
তবে চাঁদাবাজির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা আজনান সাকিব। উল্টো তিনি অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করছিল, যার প্রতিবাদ করেছে শিক্ষার্থীরা। এখানে ছাত্রদল বা কোনো শিক্ষার্থী চাঁদা দাবি করেননি।
এই বিষয়ে জানতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলম এবং প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সালকে একাধিকবার ফোন করা হলেও অপরপ্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
তবে বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলছেন, ঠিকাদারের প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, এতে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মারধর করাসহ চাঁদাবাজির অভিযোগটি পরবর্তীতে তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’