স্ত্রীর মামলায় গ্রেপ্তার, জামিনে বেরিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী স্বামী নিহত

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:৩৩, মার্চ ০২ ২০২৬ মিনিট

স্ত্রীর মামলায় ওয়ারেন্ট জারির পর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে আদালতে সোর্পদ করে স্বামী সফিকুল ইসলামকে (৪১)। আদালত থেকে এদিন (সোমবার) বিকেলে জামিনে বের হয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে সিএনজিযোগে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সফিকুল ও তার চাচী রিজিয়া পারভীন নিহত এবং আরো দুইজন আহত হয়েছেন। নিহত সফিকুল ইসলাম বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চরদিয়াশুর গ্রামের হাচেন বেপারীর ছেলে। তিনি (সফিকুল) দীর্ঘদিন থেকে কর্মের সুবাদে সৌদি আরবে ছিলেন। অপর নিহত রিজিয়া পারভীন সফিকুলের প্রতিবেশী চাচা মজিবর ফরাজীর স্ত্রী। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সফিকুল ইসলাম ছুটিতে বাড়িতে আসেন। একটি ওষুধ কোম্পানীর পিকআপের সাথে যাত্রীবাহি সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষের এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনহাট নামক এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা রাসেদ আহমেদ জানান, গত দুই বছর পূর্বে প্রবাসী সফিকুলের প্রথম স্ত্রীর লাশ ড্রাম ভর্তি অবস্থায় যাত্রীবাহি একটি লোকাল বাস থেকে ভুরঘাটা বাসষ্টান্ডে বসে উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে সফিকুল ছুটিতে দেশে ফিরে তার শিশু সন্তানদের কথা চিন্তা করে দ্বিতীয় বিয়ে করে পুনরায় সৌদি আরবে পাড়ি জমায়। সূত্রে আরো জানা গেছে, বিদেশে থাকা অবস্থায় সফিকুলের সাথে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মনোমালিন্য হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সফিকুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত থেকে সফিকুলের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। এরইমধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সফিকুল ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে রবিবার (১ মার্চ) দিবাগত রাতে গৌরনদী মডেল থানার এসআই শিমুল হোসেন আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সফিকুলকে নিজবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন। সোমবার গ্রেপ্তারকৃত সফিকুলকে আদালতে সোর্পদ করার পর তার জামিন মঞ্জুর হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের সাথে সিএনজিযোগে বাড়ি ফেরার পথে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী সফিকুল ইসলাম ও তার চাচী রিজিয়া পারভীন নিহত হন। অপর আহত দুইজনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।