কয়েলের আগুন থেকে অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে মরল ২১টি ছাগল আর দুইটি গরু
নিজেস্ব প্রতিবেদক|২৩:১৭, মার্চ ০১ ২০২৬ মিনিট
নিজস্ব প্রতিবেদক : শিলন্দিয়ার শনিবারের রাতটা শুধু আগুনের নয়, একটি দরিদ্র পরিবারের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার রাত। দিনমজুর মুজাম্মেল হক মল্লিকের চোখের সামনে একে একে পুড়ে মরল ২১টি ছাগল আর দুইটি গরু।
প্রাণগুলোর সঙ্গেই যেন নিভে গেল মুজাম্মেল পরিবারের আগামী দিনের আলো। এখনো দগ্ধ অবস্থায় একটি গরু এবং ছয়টি ছাগল রয়েছে।
গৃহপালিত এই পশুগুলোকে আদৌ বাঁচাতে পারবেন কি না, তা নিয়েও দুশ্চিন্তার শেষ নেই পরিবারটির। মুজাম্মেল হক বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের শিলন্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
দিনমজুরির পাশাপাশি গরু-ছাগল পালন করেন তিনি। স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে মুজাম্মেল হকের বসতঘরে আগুন লাগে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েলের আগুন থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসতঘর, রান্নাঘর ও গবাদিপশুর ঘরে।
সূত্র জানায়, সকালে কাজ মিললে দিন চলে, না মিললে হাঁড়ি চড়ে না। এই অনিশ্চিত জীবনের মাঝখানে মুজাম্মেলের নিশ্চিত ভরসার জায়গা ছিল গরু-ছাগল।
এখান থেকেই ঘরে আসতো চাল-ডাল। গাভীর দুধে চলতো নিত্য খরচ। অসুখ-বিসুখে ওগুলোই ছিল শেষ অবলম্বন। আগুন সেই সবকিছু মুহূর্তেই কেড়ে নিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, গোয়ালঘরে জ্বালানো মশার কয়েল থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
কিন্তু আগুনের কাছে কারণের কোনো দাম নেই। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রাম জেগে ওঠে চিৎকারে। মানুষ দৌড়ে আসে, পানি ঢালে, চেষ্টা করে। কিন্তু চোখের সামনে পশুগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস রওনা দিয়েছিল। কিন্তু ভাঙা রাস্তা আর দূরত্ব পেরোতে পেরোতেই সব শেষ। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পশুগুলো ছিল মুজাম্মেল হকের ব্যাংক; তার সঞ্চয়, তার ভবিষ্যৎ। আজ সেই ব্যাংক আগুনে পুড়ে শূন্য।
বসতঘর ভস্মীভূত; গোয়ালঘর নেই, আয়ের কোনো পথও নেই। আগুন কেবল প্রাণ নেয়নি, কেড়ে নিয়েছে একজন দিনমজুরের মাথা তুলে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা আজ রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।