ভোলায় মাকে অচেতন করে কোলে থাকা ৩ মাসের শিশু চুরি করল দুর্বৃত্তরা

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:৪৮, ফেব্রুয়ারি ২৫ ২০২৬ মিনিট

ভোলায় টিকাদান কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মায়ের কোলে থাকা তিন মাসের এক শিশু চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের মালের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শিশুটিকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে নিয়মিত টিকা দেয়ার জন্য মা সুমাইয়া তার তিন মাস বয়সী কন্যা শিশু জিদনিকে নিয়ে মালের হাট টিকাকেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। পথে মালের হাট ব্রিজের ওপর পৌঁছালে দুই অজ্ঞাতনামা মহিলা তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে। প্রথমে তারা সাধারণভাবে আলাপ জুড়ে দেয়, এরপর কৌশলে সুমাইয়ার হাতে ২০০ টাকার একটি নোট দিয়ে জানতে চায় সেটি জাল কি না। সুমাইয়া নোটটি হাতে নেয়ার পরপরই মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে ব্রিজের ওপর পড়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, নোটটির সঙ্গে কোনো অজ্ঞানকারী পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। সুমাইয়া জ্ঞান হারানোর সুযোগে দুর্বৃত্তরা তার কোলে থাকা শিশু জিদনিকে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। কিছু সময় পর স্থানীয়দের সহায়তায় সুমাইয়ার জ্ঞান ফেরে। জ্ঞান ফিরে তিনি দেখেন, তার কোলে থাকা শিশু আর নেই। সঙ্গে সঙ্গে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি। শিশুটির বাবা আবদুর রব (৩৫) পেশায় একজন বিল্ডিং সাব-কন্ট্রাক্টর। তিনি তিন সন্তানের জনক। চুরি হওয়া শিশু জিদনি তাদের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। পরিবারের অন্য দুই সন্তানের মধ্যে রয়েছে ৭ বছর বয়সী ছেলে জিহাদ ও ৩ বছর বয়সী মেয়ে জিন্নাত। ছোট্ট শিশুটিকে হারিয়ে বাবা-মা ও স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শিশুটির চাচা জসিম চাকলাদার বলেন, দুইজন মহিলা আমার ভাবির সঙ্গে কথা বলে ব্রিজের ওপর দাঁড় করায়। তারা ২০০ টাকার একটি নোট দেয়। নোট হাতে নেয়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফেরার পর দেখা যায় শিশুটি নেই। আমরা আশপাশের সব জায়গায় খুঁজছি, কিন্তু কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ধারণা করছেন, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ হতে পারে। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও শিশুটিকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জিয়া উদ্দীন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি জানান। এদিকে শিশুটির পরিবার প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যদি শিশুটির সন্ধান পেয়ে থাকেন, তাহলে ০১৭২৯৯৩০১৬২ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।