নিজেস্ব প্রতিবেদক|২১:০৪, ফেব্রুয়ারি ২৩ ২০২৬ মিনিট
বরগুনার পাথরঘাটা উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জলদস্যুদের তৎপরতা। একের পর এক অপহরণ, লুটপাট ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জেলেরা।
নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক জেলে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না, যার ফলে জীবিকা সংকটে পড়েছে হাজারো জেলে পরিবার এবং বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে সামুদ্রিক মৎস্য খাত।
স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকদের অভিযোগ, এক সময় বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে জলদস্যু কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে নজরদারি কমায় তারা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গভীর সাগরে ট্রলার ঘিরে ফেলা, মারধর, জাল ও মাছ লুট এবং জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনা এখন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি সুন্দরবন সংলগ্ন কটকা এলাকায় পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামের আব্দুল সরদারসহ চার জেলেকে অপহরণ করে জলদস্যুরা। পরে প্রায় চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাদের ছাড়িয়ে আনেন।
ফিরে আসা আব্দুল সরদার জানান, দস্যুরা তাকে পায়ে শিকল দিয়ে চার দিন আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। তিনি বলেন, “গভীর রাতে ট্রলারের শব্দ পেয়ে আমরা বাতি নিভিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের ধরে ফেলে। জালে আটকে থাকায় ট্রলার নিতে না পেরে আমাকে তুলে নিয়ে যায় এবং প্রতিদিন মারধর করে।”
এছাড়া গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা স্লুইজ এলাকায় নোঙর করা একটি ট্রলার থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর পাহারাদার মিরাজুলকে তুলে নিয়ে যায় দস্যুরা। একই সঙ্গে ট্রলারটিও ছিনতাই করা হয় বলে জানা গেছে।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “জেলেদের একের পর এক অপহরণ করা হচ্ছে। অনেকে মুক্তিপণ দিয়ে ফেরত আসছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।”
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, “এ ধরনের ঘটনার নির্ভরযোগ্য তথ্য বা লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাগরে প্রশাসনিক টহল রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা আরও জোরদার করা হবে।”
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। একদিকে দস্যুদের ভয়, অন্যদিকে ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের জীবন এখন বিপর্যস্ত।