বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পল্টিতে হতবাক নগরবাসী
নিজেস্ব প্রতিবেদক|২১:০০, ফেব্রুয়ারি ২২ ২০২৬ মিনিট
জামায়াত থেকে এবার বিএনপিতে ঝাঁপ দিয়েছেন বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুর ইসলাম। গত সতেরো বছর আওয়ামী লীগ আমলে শেখ মুজিবকে নিয়ে একাধিক বই লিখে নিজেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক প্রমাণ করা শিক্ষক নুরুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাতারাতি বদলে গিয়ে হয়েছিলেন জামায়াত। প্রকাশ্যেই নিজেকে জামায়াত সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি। সেই তিনিই গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন শেষে হওয়ার পরপরই সবার আগে ফুল নিয়ে ছুটে গেছেন বরিশাল সদর পাঁচ আসনে বিজয়ী মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসায়। বিএনপি মনোনীত নবনির্বাচিত এমপিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পরপরই আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে বরিশাল নগরী জুড়ে।
আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াত হয়ে বিএনপির ছায়াতলে আসা এই শিক্ষক নুরুল ইসলাম এখন বরিশাল নগরীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, ফ্যাসিস্ট আমলে বরিশাল জিলা স্কুল মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ করতে গেলে এই শিক্ষক নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বিএনপির বিরুদ্ধে। সেই তিনিই এখন আবার বিএনপি সাজার চেষ্টা চালাচ্ছেন। একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, গত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে নিজেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক পরিচয় দিয়ে বরিশাল জিলা স্কুলে গড়েছিলো দুর্নীতির আখড়া। দূর্নীতির দায়ে বদলি হয়ে ঝালকাঠি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে যায় নুরুল ইসলাম। সেখানেও অনিয়ম দূর্নীতি করে বানিয়েছে অঢেল সম্পদ। এরপর গত ২৪ সালের ৫ আগস্টের পরেই নিজেকে জামায়াত সমর্থিত পরিচয় দিয়ে আবারও বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন নুরুল ইসলাম। তবে জিলা স্কুলে যোগদানের পরপরই আলোচনায় আসে নুরুল ইসলামের আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত কর্মকান্ড। তখন নিজেকে জামায়াত সমর্থক পরিচয় দিতেন। এমনকি নুরুল ইসলাম নিজেকে জামায়াত প্রমাণ করতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জামায়াতের রেটিনা কোচিং সেন্টারকে জিলা স্কুলের কয়েকটি রুম ভাড়া দেয় পরীক্ষা নেয়ার জন্য। এই নিয়ে সেসময় পত্র-পত্রিকাতে লেখালেখি হয় এবং ওই ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত জামায়াত ঘরোনাতে যোগাযোগ রাখা এই শিক্ষক নুরুল ইসলাম হঠাৎ করেই ছুটে যান বরিশাল পাঁচ আসনের নব নির্বাচিত এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসায়। সেখানে গিয়ে এমপি সরোয়ারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান তিনি।
বরিশালে এখন পর্যন্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রধান কেউই নবনির্বাচিত এমপিকে এভাবে শুভেচ্ছা জানাননি। অভিজ্ঞদের মতে শপথ গ্রহনের পরেই কেবল এই রীতি অনুসরন করতে পারে সরকারি কর্মকর্তারা। কিন্তু তিনি সেই নিয়ম না মেনে আগেভাগেই নিজেকে বিএনপি সমর্থক বানাতে নেমে পড়েন নুরুল ইসলাম। ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জিলা স্কুল মাঠে বিএনপির সমাবেশ বন্ধ রাখতে থানায় লিখিত অভিযোগকারী নুরুল ইসলাম এখন বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন আমি বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ করিনি। তবে এটা মিথ্যাচার, বাস্তবতা হলো ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির সমাবেশ বন্ধ করতে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন এই নুরুল ইসলাম। যার প্রমাণাদি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
এ সব বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিযা উদ্দিন সিকদার বলেন, স্বৈরাচারি আমলে সুযোগ সুবিধা নেয়া কেউ যদি খোলস পাল্টে অবৈধ স্বার্থ হাসিলের চিন্তা করে তাদের মুখোশ উম্মোচন করা হবে। তিনি আরও বলেন, এসব লোক শিক্ষক রুপে ব্যবসার ধান্দা করে। নাহলে সবসময় ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয় খুঁজতো না।