লাগামহীন বরিশালের বাজার, হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন-মধ্যবিত্তরা

এ.এ.এম হৃদয় | ২০:৩০, ফেব্রুয়ারি ১৯ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই বরিশালের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে রমজানকেন্দ্রিক সব পণ্যের দাম। বিশেষ করে খেজুর, ফল ও ইফতারসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। যদিও গত মঙ্গলবার থেকে নগরীতে টিসিবির ট্রাকসেল শুরু হয়েছে। তবে এর প্রভাব খুচরা বাজারে তেমন দেখা যাচ্ছে না। নগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের খেজুরে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বর্তমানে জাহিদী খেজুর ৩২০ টাকা, খুরমা ৩৫০ টাকা, নাগাল ৪০০ টাকা, বড়ই ও গাবাজ ৪৮০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কালমি ৭০০-৭৫০ টাকা, সুক্কারি ৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আজওয়া খেজুরের দাম কেজিতে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। ফলের বাজারেও একই চিত্র। কালো আঙুর ৬০০-৭০০ টাকা, সাদা আঙুর ৫২০-৫৫০ টাকা, আপেল ৩২০-৩৮০ টাকা, কমলা ও মাল্টা ৩০০-৩৫০ টাকা এবং আনার ৪৫০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবুর হালি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০-৬০ টাকায় উঠেছে। বরিশাল ফলপট্টি এলাকায় ফল কিনতে আসা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘শুনেছি, অন্য দেশে রমজান এলে দাম কমে, কিন্তু আমাদের দেশে উল্টো চিত্র। সামান্য অজুহাত পেলেই দাম বাড়ে।’ শাহানা বেগম নামে আরেক ক্রেতা বলেন, ‘ফলের দামে আগুন। অনেকেই হয়তো ফল ছাড়াই ইফতার করবেন।’ সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০-২৫০ টাকা, করলা ১৩০-১৪০ টাকা, শিম ৫০-৬০ টাকা, ফুলকপি ৫০-৬০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ৬০-৭০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪৫-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মাছ ও মাংসের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৫০-৫০০ টাকা, টেংরা ৫০০-৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-৩৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০-৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম প্রকারভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খেসারির ডাল ১০০ টাকা, মুগডাল ১৫৫ টাকা, দেশি মসুর ১৬০ টাকা, ছোলা ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেল ২০০ টাকা এবং সরিষার তেল ২২০ টাকা লিটার। নগরের এক পাইকারি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শীতকালীন সবজির মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। পরিবহন ব্যয় ও চাহিদা বৃদ্ধিও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। নগরীর বহুমুখী পাইকারি সবজির বাজারের দুলাল বাণিজ্যালয়ের মালিক শুভ জানান, রমজানের কারণে সবজির দাম বাড়েনি; শীতকালীন সবজির মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কম ও চাহিদা বেশি থাকায় কয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে। তবে পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি। কারণ পাইকারি বাজার থেকে সবজি কিনে শ্রমিক খরচ ও ভ্যান ভাড়া দিয়ে বিক্রি করতে হয়। তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের কিছু করার নেই। কারণ আড়তদাররা শুধু বিক্রির ওপর কমিশন পান, যার পরিমাণ সারা বছরই সমান থাকে।’ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুমি রানী মিত্র বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। কেউ সিন্ডিকেট করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ রমজান শুরুর আগেই বাজারের এমন অস্থিরতায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের নজরদারি কতটা কার্যকর হয়।