লেবুর হালি ২০০ টাকা

দেশ জনপদ ডেস্ক | ১৯:৫৫, ফেব্রুয়ারি ১৮ ২০২৬ মিনিট

চায়ের রাজ্যখ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল লেবু ও আনারসের জন্যও দেশব্যাপী পরিচিত। তবে সেই ‘লেবুর রাজ্য’ শ্রীমঙ্গলে হঠাৎ করেই লেবুর দাম আকাশচুম্বি হয়ে উঠেছে। বড় সাইজের লেবু খুচরা বাজারে প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা পর্যন্ত। এতে রমজানকে সামনে রেখে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) শ্রীমঙ্গল বাজার ও বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে লেবুর সরবরাহ তুলনামূলক কম। এক মাস আগেও যেখানে প্রতি হালি লেবু ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে বর্তমানে সাইজভেদে দাম দাঁড়িয়েছে ৮০ থেকে ২০০ টাকা। বড় সাইজের লেবু ২০০ টাকা, মাঝারি ১৫০-১৭৫ টাকা এবং ছোট সাইজ ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারি আড়তে লেবুর সংকট রয়েছে। প্রতি পিস লেবু কিনতে হচ্ছে ১৮ থেকে ৪৫ টাকা দরে। পরিবহন, শ্রমিক ও বাজার খরচ যোগ করে খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে বলে তারা আশা করছেন। শ্রীমঙ্গল বাজারের খুচরা বিক্রেতা রহিম মিয়া বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এক-চতুর্থাংশ। আড়তে লেবু পাওয়া যায় না। বেশি দামে কিনে এনে অল্প লাভে বিক্রি করছি।’ আরেক বিক্রেতা ছালেক মিয়া জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ পিস লেবু বিক্রি হতো, এখন তা নেমে এসেছে ১০০-১৫০ পিসে। ক্রেতারা জানান, রমজানে ইফতারে লেবুর সরবতের চাহিদা বেশি থাকে। দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই লেবু কিনতে পারছেন না। ক্রেতা মোস্তাক আহমদ বলেন, ‘লেবুর রাজ্যে থেকেও চাহিদামতো লেবু কিনতে পারছি না। এক হালি কিনতে গিয়ে ১৫০-২০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।’ আরেক ক্রেতা মুসলিম মিয়া বলেন, “দাম এত বেশি যে এবার হয়তো বিকল্প পানীয়েই ইফতার করতে হবে।’ স্থানীয় বাগান মালিকরা জানান, এ বছর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় লেবুর ফলন কম হয়েছে। হোসনেবাদ এলাকার বাগান মালিক জুয়েল আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘পানির অভাবে ফুল ঝরে গেছে। স্বাভাবিক ফলনের চার ভাগের এক ভাগও হয়নি।’ ব্যবসায়ী মালেক মিয়া বলেন, ‘ভরা মৌসুমে প্রতিটি গাছে ২৫০-৩০০টি লেবু হয়, কিন্তু এখন অনেক গাছে ১০-১৫টির বেশি নেই।’ শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন জানান, উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়। বৃষ্টিপাতের অভাবে ফলন কমেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘প্রশাসনের উদ্যোগে বাজার মনিটরিং করা হয়েছে। কিছু দোকানে মূল্যতালিকা না থাকায় জরিমানা করা হয়েছে।’ কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় রোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান।