ঝালকাঠিতে আ.লীগ নেতাকে আটকের পর ছেড়ে দিলো পুলিশ

এ.এ.এম হৃদয় | ২০:১১, ফেব্রুয়ারি ১১ ২০২৬ মিনিট

ঝালকাঠিতে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে আটকের পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাকে ছাড়াতে সয়ং ঝালকাঠি-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো সুপারিশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তার পদ-পদবি ও মামলার বিষয়ে অবগত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নলছিটি উপজেলার কয়া গ্রামে ডিবি পুলিশ বিশেষ অভিযানে দপদপিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল মান্নান মৃধা ‍চুন্নুকে আটক করে। মান্নান মৃধা সাবেক এমপি আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে স্থানীয়রা জানান। তিনি যাত্রাবাড়ি থানায় দায়ের হওয়া ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গণহত্যা মামলার ১৪৮ নম্বর আসামী। যার মামলা নং-১০৫ (৩)২৫। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি ঝালকাঠি-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর সমর্থক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এমনকি তার নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। যার ফলশ্রুতিতে মান্নান মৃধাকে ছাড়াতে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো সুপারিশ করেছেন বলে গোপনসূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ- মান্নান মৃধা পতিত আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা এবং এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তবে আটকের পর রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেয়া হয়। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা বলেন, অভিযানে মান্নান মৃধাকে গ্রেফতার করা হলেও ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। মান্নান মৃধা আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা এবং এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ি থানায় ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গণহত্যা মামলা রয়েছে। আওয়ামী লীগের পদ-পদবি, হত্যা মামলা থাকা স্বত্ত্বেও কিভাবে পুলিশ তাকে আটকের পর ছেড়ে দেয়? আবার তাকে ছেড়ে দিতে কিভাবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো সুপারিশ করেন? এমন প্রশ্ন নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে। ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো সুপারিশ ও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ নেতা-কর্মীদের। আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মান্নান মৃধা ‍চুন্নু বলেন- জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাকে থানায় নেওয়া হয়েছিল, পরে ছেড়ে দিয়েছে। আমি মূলত বিএনপির লোক, এতোদিন আমির হোসেন আমুর ভয়ে আওয়ামী লীগের সাথে ছিলাম। আর কোন কমিটিতে আমার নাম নেই, ওসব কাগজপত্র ভূয়া। যাত্রাবাড়ি থানায় দায়ের হওয়া ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গণহত্যা মামলার আসামী কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন- ওই মামলা এখনো তদন্ত চলছে, সেখানকার ওসি সাহেব আমি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত গ্রেফতার করতে নিষেধ করেছেন। অভিযানে অংশ নেওয়া ঝালকাঠি জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এএসআই জনি বলেন- মান্নান মৃধাকে গ্রেফতারের বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। আপনি (প্রতিবেদক) সিনিয়র অফিসারদের সাথে কথা বলেন। ঝালকাঠি জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ইন্সপেক্টর বলেন, মান্নান মৃধা ‍চুন্নুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনে থানায় হস্তান্তর হয়েছে। থানার ওসি পরবর্তী পদক্ষেপ কি নিয়েছেন তা তিনি ভালো বলতে পারবেন। ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, যেহেতু ডিবি পুলিশ আটক করেছে সেহেতু তারাই বলতে পারবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা, আপনি (প্রতিবেদক) তাদের কাছে প্রশ্ন করেন বলেই কলটি কেটে দেন তিনি। ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন- মান্নান মৃধা ‍চুন্নুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তার পদ-পদবি ও মামলার বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না। এ বিষয়ে জানতে ঝালকাঠি-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।