ক্ষমতায় গেলে জামায়াত কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করবে, এটি জঘন্য মিথ্যাচার : শফিকুর রহমান

দেশ জনপদ ডেস্ক | ২০:২৪, জানুয়ারি ৩০ ২০২৬ মিনিট

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল জামাতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নাকি কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে, এটি একটি জঘন্য মিথ্যাচার। আপনারা এসব মিথ্যার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকবেন। কওমি মাদ্রাসা হলো আমাদের কলিজা। তিনি বলেন, তারা দ্বীনকে ধরে রেখেছে। যারা আলেমদের ভয় দেখায়, তারা মূলত মতলববাজ। জামায়াতের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সজাগ থেকে তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের গড়ার ডাক দেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনীর পাইলট স্কুল মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জুলাই বিপ্লবে ফেনীর রাজপথে শাহাদাতবরণকারী তরুণদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বিশেষভাবে শহীদ আবরারের কথা স্মরণ করে বলেন, আবরার ফাহাদ এই দেশের সার্বভৌমত্ব ও ফেনী নদীর পানির জন্য নিজের জীবন দিয়েছিলেন। যতদিন পৃথিবী থাকবে, এই জাতি তাকে ভুলবে না। আপনারা ফেনীর মানুষও আবরারকে কোনোদিন ভুলবেন না। আধিপত্যবাদের দালালরা তাকে সহ্য করতে পারেনি, কিন্তু তার রক্ত আজ আমাদের প্রেরণা। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, ফেনীর মাটির গর্বিত সন্তান বেগম খালেদা জিয়া। তিনি কখনো আধিপত্যবাদকে প্রশ্রয় দেননি। মহান আল্লাহ উনাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের বাসিন্দা বানিয়ে দিন। জামায়াতে ইসলামীর আমির দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ফেনীর উন্নয়নে তার দলের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ‘রক্তের সাগরে’ ভেসে আসা নতুন বাংলাদেশে জুলুমের রাজত্ব অবসানের ডাক দিয়ে তিনি আরও বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে কেবল একটি দলের বিজয় নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি ফেনীর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, প্রতিটি জেলা যাতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যে ফেনীতে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। লালপুলে যানজট নিরসনে একটি আধুনিক ওভারপাস নির্মাণ এবং বন্যা প্রতিরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। জামায়াত ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে ফেনী তার পাওনা পেয়ে গর্বিত হবে বলে তিনি যোগ করেন। এ ছাড়া প্রত্যেক জেলায় সরকারিভাবে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণে জামাতের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। বিগত বন্যায় ফেনীর ভয়াবহ ক্ষতির কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত সে সময় রাজনৈতিক স্বার্থ না দেখে কোমর সমান পানি ভেঙে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গোটা দেশে রক্তে ভেসে গেছে। জামায়াত বিএনপির অনেক নেতাসহ বহু আলেম ওলামাকে হত্যা করা হয়েছে। দেশে তারা খুনের রাজত্ব শুরু করছিল। ফেনী ছিল সন্ত্রাসের রাজত্ব। এখানে যে পরিমাণ সন্ত্রাস হয়েছিল এটি অন্য কোনো জেলায় খুঁজে পাওয়া যায় না। ফেনীর তরুণ যুবসমাজের ও দেশের মায়েদের ত্যাগ ও আস্থার প্রতিদান দিতে জামায়াত শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করে জামায়াত আমির উপস্থিত লক্ষাধিক জনতার উদ্দেশে বলেন, আগামী ১২ তারিখ সকলকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। তিনি একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। জেলা জামাতের আমির মুফতি মাওলানা আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টি চেয়ারম্যান ও ১১ দলীয় জোটের ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এ.টি.এম মাসুম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। এতে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস.এম কামাল উদ্দিন, ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, জামায়াতে ইসলামীর ফেনী জেলা নায়েবে আমির মাওলানা মাহমুদুল হক ও অধ্যাপক আবু ইউসুফ, সাবেক জেলা আমীর, এ. কে. এম. শামছুদ্দিন,জাতীয় নাগরিক পার্টির ফেনী জেলা আহবায়ক জাহিদ হোসেন সৈকত, ডাকসু ভিপি সাদিক কাইয়ুম, শিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক মোতাসিম বিল্লাহ শাহেদী খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জোনের সহকারী পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ আলী মিল্লাত, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ফেনী জেলা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইসমাঈল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জসিম উদ্দিন, ফেনী জেলা শিবিরের সভাপতি আবু হানিফ হেলাল, ফেনী শহর শাখার সভাপতি ওমর ফারুকসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতারা।