বাকেরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন টর্চার সেল!

এ.এ.এম হৃদয় | ২১:৩৯, জানুয়ারি ২১ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের কামারখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন টর্চার সেল হয়ে উঠেছে। গত এক মাসে তিন শিক্ষার্থী বেধড়ক মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একের পর এক কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মারধর করে হাসপাতালে ভর্তি করার মত ঘটনা ঘটলেও ওইসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন। তিনি বলেন, যেসব শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়েছে তাদের সাথে মিল মিমাংসা হয়ে গেছে। তাছাড়া যে দুজন শিক্ষক মারধর করছে তাদের একজন ডেপুটেশন ৩/৪ মাস আগে আমাদের স্কুলে এসেছে। শিক্ষার্থীদের মারধর করা ওই শিক্ষকরা হলেন, মাহাবুব হোসেন ও জামাল। এরমধ্যে শিক্ষক জামাল হোসেন ৩ মাস আগে একই ইউনিয়নের বামনিকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থেকে ডেপুটেশনে কামারখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসেছে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত একমাস আগে ইউনিয়নের কাজলাকাঠি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেনের ছেলে আকাশকে বেধড়ক মারধর করে মাহাবুব মাস্টার। মারধরের ওই শিক্ষার্থীর মেরুদণ্ডে গুরুতর আহত হয়। চতুর্থ শ্রেণীতে পড়া শিক্ষার্থী আকাশ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রায় একমাস বরিশাল শের-ই বাংলা হাসপাতালে ভর্তি ছিলো। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে আর্থিক জরিমানা দিয়ে মিল মীমাংসা হয় শিক্ষক মাহাবুব ও শিক্ষার্থী আকাশের পরিবারের। গত বৃহস্পতিবার ওই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র রুদ্র দেব কুমারকে বেধড়ক মারধর করে জামাল হোসেন। মারধরে ওই তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রুদ্রের দুটি দাঁত ভেঙে যায়। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে আছে। এছাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন নিজেও শিক্ষার্থীদের মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষক কবির হোসেনকে মারধরের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, সত্যতা স্বীকার করেন। তবে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন তিনি। শিক্ষার্থীকে মেরে দাঁত ভেঙে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক জামাল হোসেন বলেন, দাঁত নয়। এমনিতে একটি কিল দিয়েছিলাম। জানা গেছে- ইউনিয়নের কামারখালী বাজারে সরকারি প্রাথমিক এ বিদ্যালয়টিতে ৩২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিত কমেছে বলে জানিয়েছেন একাধিক অবিভাবক। চতুর্থ শ্রেণীতে পড়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা করানোর চেয়ে এই স্কুলে মারধর বেশি করে। যে কারণে অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে স্কুলে উপস্থিত থাকছে না। এতে করে ধ্বংস হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। তিনি আরো বলেন, ছোট ছোট এসব শিক্ষার্থীদের উপর এমন অমানুষিক নির্যাতন চালায় যে হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি হতে হয়। যে কারণে ভয়ে বাচ্চারা স্কুলে যেতে চায় না। অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি কামারখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থেকে এসব শিক্ষকদের অপসারণ না করা হলে স্কুলটি ধ্বংসের মুখে পড়বে। এ সব বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মারধর এটা সম্পূর্ণ আইন বিরোধী। কেউ যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।