বরিশালে পুলিশ কনস্টেবল রাজিবের পরকীয়ায় তছনছ ব্যবসায়ীর সংসার!
নিজেস্ব প্রতিবেদক|২২:৫১, জানুয়ারি ১৭ ২০২৬ মিনিট
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোয় রাজিব খান নামের এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানায় একটি সাধারন ডায়েরি ও বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ জাকির হোসেন।
এদিকে মামলা করার পর থেকে পুলিশ কনস্টেবল রাজিব নানাভাবে ব্যবসায়ী মোঃ জাকির হোসেনকে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি নিজেকে রক্ষার্থে নানা কুট কৌশল অলম্বন করছেন পুলিশ কনস্টেবল রাজিব।সংবাদকর্মীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ঘটনার মোড় অন্যদিকে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ জাকির হোসেন নগরীর ৫নং ওয়ার্ডস্থ পলাশপুর এলাকার মৃত ফারুক মিয়ার ছেলে।
অভিযুক্ত রাজিব খান বরিশাল জেলা পুলিশের যানবাহন শাখায় কর্মরত আছেন। তিনি ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর এলাকার মোঃ কবিরের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- মোঃ জাকির হোসেন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তার দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। তিনি ব্যবসায়ীক কাজের সুবাদে অধিকাংশ সময় বাসায় থাকেন না। সেই সুযোগে তার স্ত্রীর সাথে পূর্ব পরিচিত পুলিশ কনস্টেবল রাজিবের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে জাকিরের স্ত্রী বাসা থেকে নগদ ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা, ৩ ভরি স্বর্ণ, ৮ ভরি রুপাএবং একটি ল্যাপটপ নিয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে পরদিন ২৫ ডিসেম্বর তার স্ত্রী হারিয়ে গেছে মর্মে কাউনিয়া থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। এরপর থানা পুলিশ ২৭ ডিসেম্বর রাতে পুলিশ কনস্টেবল রাজিবকে চাপ দিয়ে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাকিরের স্ত্রীকে উদ্ধার করে থানায় আনেন। তখন থানা পুলিশ রাজিবের সাথে পাশের একটি কক্ষে গিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেন। এরপর জাকিরের স্ত্রীকে তার হাতে তুলে দিলেও নিয়ে যাওয়া মালামাল বা নগদ টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। মূলত রাজিব পুলিশ সদস্য হওয়ায় ও বৈঠকের মাধ্যমে সমোঝতার কারণে থানা পুলিশ ওই মালামাল উদ্ধার ও রাজিববের বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন মোঃ জাকির হোসেন।
অতঃপর থানা থেকে বের হয়েই রাজিব জাকিরকে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, বউ নিয়া যা কোন মালামাল ফেরত পাবি না। আর যদি এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করো, তাহলে বিভিন্ন মামলার আসামী বানিয়ে জেলে দিয়ে দেব।
এ ঘটনায় চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি মোঃ জাকির হোসেন বাদী হয়ে তার স্ত্রী ও পুলিশ কনস্টেবল রাজিবকে আসামী করে বরিশাল বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ জাকির বলেন- আমার সাজানো সুখের সংসার পুলিশ কনস্টেবল রাজিব তছনছ করে দিয়েছে। সে আমার স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে আমার সংসার ভেঙে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল রাজিব খান বলেন- আমার সাথে জাকিরের স্ত্রীর সাথে কোন অবৈধ সম্পর্ক নেই। সে আমার বাড়ির পাশের ভাগ্নি। অহেতুক তার স্বামী আমাকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন। এ জন্য আমাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এমনকি আমার স্ত্রীও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আমি এখন আত্মহত্যা করবো, এছাড়া আমার আর কোন পথ খোলা নেই।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- পুলিশ কনস্টেবল রাজিবকে বরখাস্ত করা হয়নি। তিনি দিব্যি কর্মস্থলে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জাকিরের স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্কের কথা অস্বীকার করলেও জাকিরের কাছে অবৈধ সম্পর্কের একাধিক প্রমাণ রয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম বলেন- পুলিশ কনস্টেবল রাজিবের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়ে গেছে। ওই ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল রাজিবের সম্পৃক্ততা থাকলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’