বরিশাল সামাজিক বন বিভাগে জনবল নিয়োগের চিঠি গ্রহণ না করার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:৩৮, জানুয়ারি ১১ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল সামাজিক বন বিভাগে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের চিঠি গ্রহণ না করার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বরিশাল ক্রাইম নিউজ অনলাইনসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় গত ২২ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন বন অধিদপ্তর। প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত ৮ জানুয়ারি স্মারক নং: ২২.০১. ০০০০. ০০০. ০৮.৯৯. ০০০১.২৬.২০ থেকে তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মিহির কুমার দো, বন সংরক্ষকের কার্যালয়, কোস্টাল সার্কেল, বরিশালের অধীনস্থ সামাজিক বন বিভাগে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল সরবরাহের কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদার কর্তৃক জনবল নিয়োগের চিঠি গ্রহণ না করার বিষয়ে গ্লোবাল ফাস্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের স্বাক্ষরকারী মোহাম্মদ আলী হাওলাদার গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগটি সংযুক্তিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। ’ চিঠিতে আরও বলা হয়, অভিযোগটি পর্যালোচনা করে উল্লিখিত বিষয়ে সরেজমিন তদন্তপূর্বক মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন জরুরি ভিত্তিতে প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তরে দাখিল করতে হবে। এ বিষয়ে বরিশাল সামাজিক বন বিভাগের বর্তমান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জামিল খানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আউটসোর্সিং নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কোনো চিঠি আমি এখনও হাতে পাইনি, তবে বিষয়টি শুনেছি।” অন্যদিকে, বরিশাল বন সংরক্ষকের কার্যালয়ের কোস্টাল সার্কেল মিহির কুমার দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এখন মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি, পরে ফোন দেব।” সূত্র জানায়, বরিশাল সামাজিক বন বিভাগে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. জাহিদুর রহমান মিয়া তিন মাস দায়িত্ব পালনকালে একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দায়িত্বকালীন সময়ে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারি দরপত্র প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, তিন মাসের দায়িত্বকালে তিনি মোট ১০ দিনও বরিশাল কার্যালয়ে অফিস করেননি। ফাইলে স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে পটুয়াখালী কার্যালয়ে গিয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদার গ্লোবাল ফাস্ট সার্ভিসেস লিমিটেড প্রথম দফায় ৬ জন কর্মী নিয়োগ দেয়। পরে অতিরিক্ত ২ জন মালী নিয়োগের জন্য ড. জাহিদুর রহমান মিয়া নিজেই গত ২৫ নভেম্বর প্রধান বন সংরক্ষকের স্মারক অনুসারে লিখিতভাবে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব দাখিলের নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুযায়ী ঠিকাদার জামানত জমা দিয়ে গত ৮ ডিসেম্বর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে গেলে বরিশাল সামাজিক বন বিভাগ তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ঠিকাদারের অভিযোগ, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করেও কোনো কর্মকর্তা নিয়োগপত্র গ্রহণ করেননি। এ সময় প্রধান সহকারী (হিসাব রক্ষক) আলহাজ্ব মো. লুৎফর রহমান একপর্যায়ে অফিস ত্যাগ করেন এবং ক্যাশিয়ার উ মু সিরাজুল ইসলাম জানান, ডিএফও স্যারের নির্দেশ ছাড়া কোনো চিঠি রিসিভ করা যাবে না।” নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দরপত্র অনুযায়ী ২ জন মালী নিয়োগের প্রস্তাব আহবান করেছিলেন ডিএফও নিজেই। কিন্তু প্রস্তাব জমা দিতে গেলে মৌখিকভাবে ‘রিসিভ বন্ধ’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ৩২ লাখ ৮৫ হাজার ২৭ টাকা মূল্যে ৬টি পদের বিপরীতে গ্লোবাল ফাস্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়। পরে প্রধান বন সংরক্ষকের নির্দেশে আরও ২ জন মালী নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৭ মাসের জন্য ভেরিয়েশন অর্ডার জারি করা হয়। সবকিছু বৈধ থাকা সত্তে¡ও কাগজ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করাকে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) অনুযায়ী গুরুতর প্রশাসনিক অনিয়ম হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। গ্লোবাল ফাস্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের কর্ণধার মোহাম্মদ আলী হাওলাদার বলেন, “বর্তমান সরকার দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে। অথচ সাবেক ডিএফও ড. জাহিদুর রহমান মিয়া দুর্নীতি করেও কোথাও বিচার পাচ্ছেন না। আমার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ২ জন কর্মী চাকরি না পেয়ে মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।” একটি অসমর্থিত গোপন সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগের পরও প্রধান বন সংরক্ষকের তদন্ত নির্দেশনা উপেক্ষা করে কোস্টাল সার্কেল, বরিশাল কর্তৃপক্ষ সরেজমিন তদন্ত না করে সদ্য যোগদানকৃত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জামিল খানের কাছ থেকে কেবল মতামত চেয়েছেন।