নিজস্ব প্রতিবেদক আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় জোট সমন্বিতভাবে নির্বাচনী মাঠে নামছে। এই জোটের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল—জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে বরিশাল-৫ আসনে উভয় দলের প্রার্থী থাকায় শুরু থেকেই আসনটিকে ঘিরে রাজনৈতিক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই কৌতূহল রূপ নিচ্ছে সমঝোতার সম্ভাবনায়।
বরিশাল-৫ আসন থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। অপরদিকে একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
তবে জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও আসন ভাগাভাগির অংশ হিসেবে এই আসনে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে—এমন ইঙ্গিত মিলেছে দলীয় সূত্রে। বিশেষ করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ২০ জানুয়ারির আগেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। দলটি জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন করেছে, যেখানে বরিশাল-৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলালকে কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা সাধারণত সরাসরি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন না।
এই প্রেক্ষাপটে ধারণা করা হচ্ছে, বরিশাল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের পক্ষে মাঠ ছেড়ে দিতে পারে জামায়াতে ইসলামী। ফলে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর জন্য আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে।
জানা গেছে, পুনর্গঠিত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুমকে আহ্বায়ক এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলালকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
সব মিলিয়ে বরিশাল-৫ আসনে জোটগত ঐক্য রক্ষায় শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী প্রত্যাহার করবে কি না—সেই সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি হওয়ায়, তার আগেই বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।