বরিশাল-৫: মর্যাদাসম্পন্ন আসন নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের রশি টানাটানি

এ.এ.এম হৃদয় | ১৮:৫০, জানুয়ারি ০১ ২০২৬ মিনিট

বরিশাল নগর ও আশপাশের ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বরিশাল-৫ (সদর) আসন। শহর ও গ্রামীণ জনপদের সমন্বয়ে গঠিত এই আসনটি বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। ভৌগোলিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার আসন হওয়ায় প্রতিটি নির্বাচনে এই আসন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে সবচেয়ে বেশি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে ইসলামী সমমনা ১১ দলের জোটের প্রার্থী নির্ধারণকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে রশি টানাটানি শুরু হয়েছে। আসন ভাগাভাগিতে দুই দলই বরিশাল-৫ আসন ছাড়তে নারাজ। তাই উভয়পক্ষের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে মাঠে সক্রিয় আছেন। এরই মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। শেষ পর্যন্ত কে জোটের প্রার্থী হচ্ছেন, এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আসন ভাগাভাগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট হেলাল মাঠে কিছুটা নীরব রয়েছেন। তবে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির ফয়জুল করীম তার অবস্থানে অনড়। তিনি বরিশাল সদর আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন না পেলে ইসলামী দলগুলোর বলয় থেকে বের হয়ে আসার কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলার ২১টি আসনের মধ্যে বরিশাল-৫ সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন আসন। একে স্থানীয় রাজনৈতিক ‘আঁতুড়ঘর’ হিসেবেও ধরা হয়। এই আসনের ফলাফলের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতির ভবিষ্যৎ। এদিকে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের বিপরীতে ১১-দলীয় জোটের যিনি চূড়ান্ত হবেন, তাকেই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে হবে। ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামী পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে তার সুফল বিএনপির ঘরে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত সপ্তাহে বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ‘বরিশাল-৫ আসনটি আমাদের দলের আমির ও বড় ভাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের রাজনৈতিক ঘাঁটি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। এই দুই আসনে আমরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’ ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ বলেন, ‘ফয়জুল করিম এর আগে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি ৩৩ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়েছিলেন।’ অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা দাবি করেন, ওই নির্বাচন একতরফা হওয়ায় ভোটের বাস্তব চিত্র ভিন্ন ছিল। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত মাঠে থাকায় ভোটের সমীকরণও ভিন্ন হবে। বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, ‘গত ১৬ বছরে মহানগর ও সদর উপজেলায় জামায়াতের রুকন ও কর্মী সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ এবং সহযোগী সদস্য সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে।’ এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট হেলাল বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’