আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার এএসআইসহ ২ পুলিশ

এ.এ.এম হৃদয় | ১৮:৫১, ডিসেম্বর ১১ ২০২৫ মিনিট

বরিশালে আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সহকারি উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ দুই পুলিশ সদস্য। মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেন এবং কনস্টেবল আব্দুস সালাম বুধবার রাতে স্থানীয় সোনালী পোল এলাকায় বাসিন্দা প্রতাপ ঘোষকে আটক করতে গেলে তাদের দুজনের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করাসহ আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের দুজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসলেও এই ঘটনায় প্রতাপ ঘোষ বা তার কোনো স্বজনকে আটক করতে পারেনি। পরে রাতেই আহত দুই পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদপুরা ইউনিয়নের সোনালী পোল এলাকায় বাসিন্দা প্রতাপ ঘোষ বরিশাল আদালতে চলমান একটি মামলার সাক্ষী। তিনি সেই মামলাটিতে সাক্ষ্য না দেওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। বুধবার রাতে অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করে এএসআই দেলোয়ার হোসেন এবং কনস্টেবল আব্দুস সালাম সোনালী পোলের প্রতাপকে ধরতে বাসায় যান। সেখানে পুলিশের সাথে প্রতাপ এবং তার স্ত্রী-ছেলেদের বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রতাপকে নিয়ে আসতে চাইলে স্ত্রীসহ দুই ছেলে মিলন ঘোষ ও বাসুদেব ঘোষ হামলা চালিয়েছে এবং দুই পুলিশ সদস্যকে মারধর করে আটকে রাখে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদস্যকে মারধর করাসহ চাঁদাবাজ অভিহিত করে আটকে রাখার ঘটনায় গোটা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করলে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন। এবং কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ আসছে এই খবর পেয়েই প্রতাপসহ স্ত্রী-সন্তানেরা বাসা থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন। আসামি ধরতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য হামলার শিকার হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বন্দর থানা পুলিশের ওসি মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি বরিশালটাইমসকে জানান, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এএসআই এবং কনস্টেবল আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের দুজনকে উদ্ধার করে পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই বাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ায় প্রতাপসহ স্ত্রী-সন্তানদের আটক করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতির পাশাপাশি ওয়ারেন্টভুক্ত প্রতাপসহ তার স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চলছে, জানান ওসি।’