‘বাকসু’ হিসেবেই ববি ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র অনুমোদন, বিএম কলেজের অসন্তোষ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র অনুমোদন দিয়েছে সিন্ডিকেট। আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মাদ তৌফিক আলমের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেটের ৯২তম সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় ববি ছাত্র সংসদের নাম ইংরেজিতে ‘Barishal University Central Students Union (BUCSU) এবং এর বাংলা নাম ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে ববি ছাত্র সংসদের নাম নিয়ে আপত্তি করে আসছে বিএম কলেজ। কেননা দুই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদের নাম একই (বাকসু) হলে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিএম কলেজের সাবেক ও বর্তমান ছাত্র ও শিক্ষকেরা। এ নিয়ে অসন্তোষও দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, বিএম কলেজ কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ভিসির সঙ্গে দেখা করে ছাত্র সংসদের নাম আলাদা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এখন যা রাখা হচ্ছে তাতে ববি তো বাকসু লিখছে না, তাই অসন্তোষ থাকার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, সিন্ডিকেট অনুমোদিত গঠনতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তারপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
জানতে চাইলে বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ছাত্রী, নগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, ‘সংঘাত এড়াতে আমরা ববি উপাচার্যকে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কেননা বাকসু বিএম কলেজের ৫২ বছর ধরে আবেগের জায়গা। যেহেতু তাঁরা আমাদের আহ্বান আমলে নেয়নি সেহেতু ‘বাকসু’কে হেফাজতে রাখতে আন্দোলন কীভাবে করতে হয়, তা আমাদের জানা আছে।’
এ ব্যাপারে বিএম কলেজের উপাধ্যক্ষ এ টি এম রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘বরিশালের এলিট শ্রেণি বিশেষ করে আশির দশকের ছাত্রনেতাদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্ব দিল না। পরে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় আমরা নেব না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম বাকসু না রেখে একটু পরিবর্তন রাখতে। কেন না বাকসু বিএম কলেজে চলে আসছে বহু বছর ধরে। কিন্তু তারা (ববি) গোঁয়ার্তুমি করলে কি করার আছে!’
প্রসঙ্গত, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএম কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তোড়জোড় চলছে। বিএম কলেজে ১৯৫২ সাল থেকে ছাত্র সংসদের সংক্ষিপ্ত নাম বাকসু হয়ে আসছে। অপরদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র তৈরি করতে যাচ্ছে। সেখানে ববি ছাত্ররাও বাকসু রাখার পক্ষে মত দেয়। এ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগ্যুদ্ধ চলছে।
