ভূমিকম্পে বরিশালের বহু ভবনে ফাটল, ধসে পড়ার শঙ্কায় নগর ভবন!

এ.এ.এম হৃদয় | ২১:২৪, নভেম্বর ২৯ ২০২৫ মিনিট

সম্প্রতি ভূমিকম্পে বরিশালের বেশকিছু ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেয়াল, ছাদ, পিলারসহ বিভিন্ন অংশ। ঝুঁকিতে আছে খোদ নগর ভবন। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেই এটি ধসে পড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় মাত্রায় ভূমিকম্প হলে ফায়ার সার্ভিসের একার পক্ষে সামাল দেয়া কঠিন হবে। ২২৪ বছরের প্রাচীন শহর বরিশাল। যেখানে দাঁড়িয়ে আছে অনেক পুরাতন ভবন। যার অনেক ভবনই ব্যবহারের অনুপযোগী। এর মধ্যে অন্যতম বরিশাল ‘নগর ভবন’। নাগরিকদের ভবন নির্মাণের অনুমোদনের দায়িত্বরতরাই আছেন সবচেয়ে ঝুঁকিতে। এ ভবনটি তৈরি হয় ১৯৯০ সালে। মাত্র ৩৫ বছরে যা হয়ে পড়েছে বেহাল। সাম্প্রতিক পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার ভূমিকম্পে ভবনটির বিভিন্ন কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। বিম ও দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। প্রতিদিন এ ভবনেই সেবা নিতে আসেন নাগরিকরা। আর সিটি করপোরেশনের ৪২৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন জীবন বাজি রেখে। কর্মচারীরা জানান, সিটি করপোরেশনের অনেক জায়গায় ফাটল ধরেছে। তাদের কর আদায় শাখার একটি পিলার ফেটে গেছে। ভবনে ফাটল নিয়ে অনেক ঝুঁকির মধ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তারা। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেই নগর ভবন ধসে পরার আশঙ্কার কথা বলছেন প্রধান প্রকৌশলী। আর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, নতুন ভবন নির্মাণের অনুমতি ও বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ন কবির বলেন, ‘আমরা এখন যে ভবনে অবস্থান করছি এটি পৌরসভার সময়ের ভবন। আমি যতটুকু জানি এ ভবন দুইতলা করার প্ল্যান ছিলো পরে এটি তিনতলা করা হয়েছে।’ বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমরা চিঠি লিখেছি। এ মুহূর্তে আমাদের অডিটোরিয়ামে কিছু রুম আছে। কিছু কাজ হয়ে গেছে। অন্যান্য কাজগুলো করছি আরকি।’ শুধু বরিশালের নগর ভবন নয়, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিছু বেসরকারি ভবনও। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে নগরবাসী নিরাপত্তায় সেগুলো অপসারণের তাগিদ দেয়া হচ্ছে। বরিশাল অধিকারের আঞ্চলিক প্রধান আজিজ সাহিন বলেন, ‘যেই ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলো যতদ্রুত সম্ভব অপসারণ করতে হবে। অপসারণ করা না হলে, ভূমিকম্প হলে বরিশালের মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাবে।’ বড় মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে ফায়ার সার্ভিসের একার পক্ষে সামাল দেয়া কঠিন হবে— বলছেন দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবক সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণের দিকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে জানান তারা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, ‘আট থেকে নয় মাত্রার কোনো ভূমিকম্প যদি এখানে আঘাত হানে, তাহলে আমাদের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যে ক্যাপাসিটি তারা দুর্যোগ কার্যক্রমে কিছুই করতে পারবে না। ভূমিকম্প হলে কী করতে হবে এ ট্রেনিংটি সোশ্যাল মিডিয়া, টেলিভিশন এগুলোর মাধ্যমে করা যেতে পারে।’ সিটি করপোরেশনের তথ্য বলছে, বরিশালে হোল্ডিং এর সংখ্যা ৫৭ হাজার। এর মধ্যে ১৭ হাজার টিনশেড। বাকি ৪০ হাজারই ভবন। যেখানে বহুতল ভবনের সংখ্যা প্রায় দুই শতাধিক।