পটুয়াখালীতে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব, রাতের আঁধারে রাখাইন পরিবারে আগুন

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ১৭:১৯, নভেম্বর ২৯ ২০২৫ মিনিট

গভীর রাতে ঘুম ভেঙেছিল আগুনের লেলিহান শিখায়। চারদিকে দপদপে আলো, ধোঁয়া আর চিৎকার। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাখাইন সম্প্রদায়ের এক পরিবার সেই দুঃস্বপ্নের রাত পেরোচ্ছে এখনও আতঙ্ক নিয়ে। গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) গভীর রাতে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে পুড়ে যায় বসতঘরের সামনের বারান্দা ও রান্নাঘর। কেটে দেওয়া হয় কয়েকটি খুঁটি। এতে একপাশে হেলে পড়ে পুরো বাড়ি। গতকাল শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে সাংবা‌দিকরার ছু‌টে যান। গিয়ে দেখেন গোটা উঠোনজুড়ে পোড়া কাঠ, ছাই আর বাতাসে পোড়া গন্ধ। আগুন দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়রা কেউই মুখ খুলতে চান না। কিন্তু অভিযোগপত্রে নাম উঠে এসেছে রুবেল সিকদার নামের এক ব্যক্তির। রাখাইন পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ তার। অভিযোগে বলা হয়েছে, বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ‘সহযোগিতায়’ শতবর্ষী রাখাইন নারী সেমাচিংয়ের সাড়ে ১২ একর জমি জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে দলিল করে নেন রুবেল। এসব প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন স্থানীয় এক মাতবরও। বসতঘরের মালিক মংচাওয়েন রাখাইন (৪২) বলেন, বুধবার রাতে বাড়িতে কেউ ছিল না। সেই সুযোগেই অজ্ঞাতপরিচয় লোকজন আগুন ধরিয়ে দেয়। জমি নিয়ে বহুদিন ধরে বিরোধ চলছে। রুবেল সিকদার ও তার লোকেরাই পরিকল্পিতভাবে এই আগুন দিতে পারে। মংচাওয়েনের দাবি, এর আগেও একই ঘরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তি‌নি ব‌লেন, ‘জালিয়াতির মাধ্যমে আমাদের জমি দখলের পাঁয়তারা চলছে। সংখ্যালঘু হওয়ায় বারবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছি।’ মংচাওয়েন রাখাইনের ভাই মায়া রাখাইন বলেন, ‘আগের সরকার আমলে আমাদের ওপর অনেক নির্যাতন করেছে রুবেল। আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। রু‌বে‌লের নামে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ এদিকে, সরকারি নথিতেও পাওয়া যায় এসএ ১৯৫ নম্বর খতিয়ান এবং বিএস ১০৮৭ খতিয়ানসহ একাধিক দাগে সেমচিং গং-এর মালিকানার তথ্য। সেমচিং রাখাইন-যাঁর জমিকে ঘিরেই এই উত্তেজনা- বলেন, রাতে আমাদের ঘরে আগুন দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে রুবেল সিকদার। সংখ্যালঘু হওয়ায় বারবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। ন্যায়বিচার চাই। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুবেল সিকদার। তাঁর দাবি, আমি কারও জমি দখল করিনি। আগুনের ঘটনা শুনেছি সকালেই। এর বেশি কিছু জানি না। কলাপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।